যখন MACD সূচকটি শূন্যের বেশ উপরে অবস্থান করছিল তখন GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3235 লেভেল টেস্ট করেছিল, যা এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করে দেয়। এই কারণেই আমি পাউন্ড ক্রয় করিনি এবং কার্যকর একটি বুলিশ মুভমেন্ট কাজে লাগাতে পারিনি। তবে 1.3264 লেভেল থেকে রিবাউন্ডের পর শর্ট পজিশন ওপেন করে করে প্রায় ৩০ পিপস লাভ করা গেছে।
মার্কিন ISM উৎপাদন খাত সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল আসায় মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ISM উৎপাদন সূচকে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার নিচে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতের এই দুর্বলতা, বিশেষ করে নতুন রপ্তানি আদেশের হ্রাস ও উৎপাদনের গতি মন্থর হওয়ার প্রতিফলন ঘটায়, যা মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ISM সূচকের দুর্বল ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভকে তাদের মুদ্রানীতি পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করতে পারে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকের সারাংশ এবং কার্যবিবরণী প্রকাশিত হবে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এছাড়াও, ন্যাশনওয়াইড হাউজিং প্রাইস ইনডেক্স বা আবাসন মূল্য সূচক প্রকাশিত হবে। কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী বিশ্লেষণের মাধ্যমে ট্রেডাররা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের হকিশ বা কঠোর অবস্থানের মাত্রা মূল্যায়ন করতে পারবে। ট্রেডাররা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিলক্ষিত উচ্চ সুদের হার কতদিন বজায় রাখা হতে পারে সেই সম্ভাব্য সময়কাল এবং ইঙ্গিতের দিকে দৃষ্টি দেবে।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্তরাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা এবং সাম্প্রতিক ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কেও ধারণা দেবে। বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকরা গৃহস্থালি ঋণের চাপ, কর্পোরেট ঋণ এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার উপর মন্তব্যগুলোর দিকে গুরুত্ব দেবেন।
ন্যাশনওয়াইড হাউজিং প্রাইস ইনডেক্স বা আবাসন মূল্য সূচক হলো যুক্তরাজ্যের রিয়েল এস্টেট মার্কেটের অবস্থা নিরূপণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভোক্তাদের আস্থার উন্নয়নের ইঙ্গিত দিতে পারে, বিপরীতে সূচকটির পতন অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং আবাসন চাহিদা হ্রাসের ইঙ্গিত দিতে পারে।
দৈনিক ট্রেডিং কৌশলের ক্ষেত্রে আমি পরিকল্পনা #1 এবং পরিকল্পনা #2 বাস্তবায়নের ওপর অধিক নির্ভর করবো।
পরিকল্পনা #1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3250-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.3221-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছাবে তখন আমি পাউন্ড কেনার পরিকল্পনা করছি। মূল্য প্রায় 1.3250-এর লেভেলের আশেপাশে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, উল্লিখিত লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে পাউন্ডের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যায়। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে 1.3204-এর লেভেলে মূল্যের পরপর দুটি টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ ইউরো কিনতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নগামী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং বাজারদরকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। 1.3221 এবং 1.3250-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3204-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি, যা GBP/USD-এর দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.3178-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার আশা করছি। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে পাউন্ডের বিক্রেতারা সক্রিয় হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ! বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে 1.3221-এর লেভেলে মূল্যের পরপর দুটি টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং বাজারদরকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী দিকে নিয়ে যাবে। 1.3204 এবং 1.3178-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করা যেতে পারে।