ইয়েনের উপর ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুয়ো উয়েদার বক্তব্য তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেনি। নতুন বছরের প্রথম প্রকাশ্য ভাষণে উয়েদা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত পরিস্থিতি উন্নতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল সুদের হার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।
"আমরা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং মূল্যস্ফীতির হ্রাসের সাথে সাথে সুদের হার বাড়াতে থাকব," — সোমবার জাপান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নববর্ষ সম্মেলনে উয়েদা বলেন। "আর্থিক নীতিমালার ক্ষেত্রে উপযুক্ত সমন্বয় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রায় সহায়ক হবে।"
তবে এই স্পষ্ট মৌলিক সংকেত সত্ত্বেও ইয়েনের মূল্যের উল্লেখযোগ্য কোনো মুভমেন্ট দেখা যায়নি। এটি এই ইঙ্গিত হতে পারে যে ট্রেডাররা ইতোমধ্যে ব্যাংক অব জাপানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে কঠোর আর্থিক নীতিমালার বিষয়টি একরকম নিশ্চিত হিসেবে ধরে নিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে আরও নির্দিষ্ট প্রতিবেদন চাচ্ছেন—বিশেষত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর—যার ভিত্তিতে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার মৌখিক হস্তক্ষেপগুলোর উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
উয়েদা আরও বলেন, ব্যাংক অব জাপান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিসমূহ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিমালার দিকেও সতর্কভাবে নজর রাখবে। তিনি আর্থিক নীতিমালা ব্যবস্থাপনায় 'সক্ষমতা ও নমনীয়তা' বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।
সামগ্রিকভাবে, উয়েদার মন্তব্য ব্যাংক অব জাপানের পক্ষ থেকে মৃদু কঠোর আর্থিক নীতিমালার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। যদিও ইয়েন তাতে তাৎক্ষণিক প্রভাবিত হয়নি—এটি নির্দেশ করে যে বিনিয়োগকারীরা এখন আরও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন, যা তাদেরকে মার্কেটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।
এই বক্তৃতাটি সর্বশেষ সুদের হার বৃদ্ধির দুই সপ্তাহ পর আসলো, যেখানে উয়েদা স্পষ্ট করেন যে ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ সত্ত্বেও, ব্যাংক অব জাপান এখনো মুদ্রানীতি নমনীয়করণের সম্পূর্ণ অবসান ঘটায়নি। বক্তৃতার পূর্বে ১০-বছর মেয়াদি জাপানি সরকারি বন্ডের লভ্যাংশ আরও বেড়ে ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়, যা মার্কেটে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে প্রতিফলিত করে।
উয়েদা বলেন, "পরিমিত মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির সংযোগ স্থাপনের সূচক সম্ভবত অব্যাহত থাকবে।" উল্লেখ্য যে গত ১৯ ডিসেম্বর ব্যাংক অব জাপান ০.৭৫% পর্যন্ত মূল সুদের হার বৃদ্ধি করে—যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। অধিকাংশ বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তীতে বছরের মাঝামাঝি সময়ে সুদের হার বৃদ্ধি করা হবে, তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ইয়েনের দুর্বলতার কারণে এটি আরও আগেই করা হতে পারে। দুর্বল ইয়েন আমদানি মূল্য বাড়িয়ে সরাসরি মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করে, যেখানে অনেক পরিবারই ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে ভুগছে। বর্তমানে জাপানের মূল মুদ্রাস্ফীতি ব্যাংক অব জাপানের ২%-এর লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়ী রয়েছে।
টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, USD/JPY পেয়ারের বিক্রেতাদের প্রথম লক্ষ্যমাত্রা হবে এই পেয়ারের মূল্যের 157.40-এর রেজিস্ট্যান্স ব্রেক করানো। এতে সফল হলে এই পেয়ারের মূল্যের 157.70 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে, তবে এই লেভেল অতিক্রম করা সহজ হবে না। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 157.95 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য কমে যায়, তাহলে মূল্য 156.90 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পা ওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হবে, যা বুলিশ পজিশনের জন্য বিরূপ সংকেত হয়ে উঠবে এবং USD/JPY পেয়ারের মূল্য আরও কমে 156.60 এবং এরপর 155.99 লেভেলের দিকে যেতে পারে।