যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার খবরের প্রভাবে ইউরো, পাউন্ড এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ফিন্যান্সিয়াল অ্যাসেটের মূল্য হঠাৎ করে বেড়ে যায়—ঠিক তখনই মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত নতুন প্রতিবেদন প্রকাশের পর ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে তীব্র মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বহমান অনিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
ফেডের কর্মকর্তা স্টিভেন মিরান ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সুদের হার হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন—যা তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা করা গোল্ডম্যান শ্যাক্সের পূর্বাভাসের বিপরীত, কারণ প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তেমন কোনো কারণ দেখছে না।
সিটিগ্রুপ মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে এবং তারা যুক্তি দিচ্ছে যে, প্রত্যাশিত গতির তুলনায় মার্কিন অর্থনীতির দ্রুত মন্দার সম্ভাবনা কারণে ফেড পূর্বাভাসের চেয়েও আগেই মুদ্রানীতি নমনীয় করতে শুরু করতে পারে। বিপরীতে, মরগান স্ট্যানলি ফেডের "প্রতিবেদন-নির্ভর" কৌশলের উপর আলোকপাত করেছে এবং সতর্ক করে বলেছে যে যদি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি না ঘটে, তাহলে দ্রুত সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা কম।
এই পূর্বাভাসের পার্থক্য মূলত বর্তমান অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্ন ব্যাখ্যার ফলাফল। মিরান মনে করছেন, ফেডের বর্তমান কঠোর অবস্থান অর্থনীতির উপর চাপে ফেলছে এবং এর কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি পুনরায় সচল করতে নির্দিষ্ট নীতিগত সমর্থনের প্রয়োজন। সিটিগ্রুপের বিশ্লেষণেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দুর্বলতার লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে, যার প্রেক্ষিতে অপেক্ষাকৃত দ্রুত নীতিনির্ধারণী প্রতিক্রিয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গোল্ডম্যান শ্যাক্স এবং মরগান স্ট্যানলি তুলনামূলকভাবে রক্ষণশীল অবস্থান গ্রহণ করেছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নীতিগত হস্তক্ষেপের দাবি করছে না। গোল্ডম্যান শ্যাক্সের বিশ্লেষকগণ জোর দিয়ে বলেছে যে, শুক্রবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রমবাজার প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী বেকারত্ব হার 4.4% ছিল, শ্রমবাজার পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক এই উন্নতি আপাতদৃষ্টিতে সাময়িক। একই সঙ্গে মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা বলেছে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সার্বিকভাবে, ফেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনার বিষয়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে—যা আবারও তুলে ধরে যে অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ পূর্বানুমান করা কতটা কঠিন এবং বিদ্যমান কতগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ট্রেডাররা যেন তাদের বিনিয়োগ কৌশল গঠনের সময় এই ভিন্নমুখী দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেন।
EUR/USD পেয়ারের বর্তমান টেকনিক্যাল পরিস্থিতি অনুযায়ী, ক্রেতাদের জন্য এখন মূল লক্ষ্য হচ্ছে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1680 লেভেল পুনরুদ্ধার করা। কেবল এই লেভেলে পৌঁছানোর পরই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1705 লেভেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। এরপর 1.1725 পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া এটি করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1740 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে। যদি এই পেয়ারের দর পতন ঘটে, তাহলে মূল্য 1.1640 লেভেলের আশপাশে থাকা অবস্থায় আমি দৃশ্যমান ক্রয়ের প্রবণতা প্রত্যাশা করব। যদি সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হয়, তাহলে এই পেয়ারের 1.1619-এর লেভেলে দরপতনের জন্য অথবা 1.1591 লেভেল থেকে লং পজিশন ওপেন করার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
GBP/USD পেয়ারের বুলিশ ট্রেডারদের জন্য তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হবে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3435-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেলে নিয়ে আসা। এতে সফল হলে এই পেয়ারের মূল্য 1.3460 লেভেল দিকে অগ্রসর হতে পারে, তবে এই লেভেল ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়াটা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3488 এরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের দরপতন ঘটে, তখন মূল্য 1.3403 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইবে। যদি তারা সফল হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য এই রেঞ্জ ব্রেক করলে সেটি দুর্বল অবস্থানে থাকা ক্রেতাদের জন্য গুরুতর ধাক্কা হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3373 পর্যন্ত নেমে আসতে পারে, যার পরবর্তীতে সম্ভাব্যভাবে 1.3341 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।