আরও বেশি মানুষ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন

গতকাল সিনেটর এলিজাবেথ ওয়রেন মন্তব্য করেছেন: "ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের জন্য ফেডের নতুন একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে এবং পাওয়েলকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিতে চান। তিনি স্ব-ঘোষিত এক স্বৈরশাসকের মতো আইনের অপব্যবহার করছেন যেন ফেড তার এবং তার বিলিয়নিয়ার বন্ধুদের সেবা করে। সিনেটের ট্রাম্প কর্তৃক কোনো মনোনীত ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দেয়া উচিত নয়।"

সিনেটর ওয়রেনের মন্তব্য ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতায় সম্ভাব্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। ফেডের বর্তমান চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হলে, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দেয়া হলে এবং অনুগত প্রার্থী নিয়োগ করা হলে—যেমনটি ওয়রেন দাবি করছেন—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে।

ওরেনের যুক্তি অনেক অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদের এই উদ্বেগের প্রতিধ্বনি যে ফেডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এমন এক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হয় যে আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বদলে বিষয়ভিত্তিক প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে নেয়া হবে।

ওরেনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত দলগত মতপার্থক্য দ্বারাও বিভক্ত হবে। রিপাবলিকানরা সম্ভবত যুক্তি দেবেন যে প্রেসিডেন্টের নিজস্ব অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী প্রার্থী নিয়োগ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তখনই ডেমোক্র্যাটরা ফেডের স্বাধীনতা রক্ষার উপর জোর দেবেন এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে সতর্ক করবেন। তবে লক্ষ্যণীয় যে কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ইতোমধ্যেই পাওয়েলের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন ও ট্রাম্পের কার্যকলাপের সমালোচনা করে বসেছেন।

জ্যানেট ইয়েলেন, বেন বার্নানকে, অ্যালান গ্রিনস্প্যান ও আরও ১০ জন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ফেডের বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য বিচার বিভাগের সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার অভূতপূর্ব চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত সাবেক কর্মকর্তারা পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে এরূপ কার্যক্রম বিপজ্জনক উদাহরণ স্থাপন করছে। তাদের দৃষ্টিতে, ফেডের কার্যক্রমে বিচার বিভাহের হস্তক্ষেপ দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা উল্লেখ করেছে যে রাজনৈতিক চাপ থেকে ফেডের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টি কার্যকরভাবে আর্থিক নীতিমালা পরিচালনা এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে হস্তক্ষেপ করা হলে সেটি অর্থনীতিতে অনিশ্চিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে, যার মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক অস্থিতিশীলতাও অন্তর্ভুক্ত। ইয়েলেন, বার্নানকে ও গ্রিনস্প্যানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত এই বিবৃতি পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনা আর্থিক নীতিমালায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব তুলে ধরছে। জনসাধারণকে এই নিশ্চয়তা দেয়া প্রয়োজন যে ফেডের সিদ্ধান্তসমূহ পুরোভাবে অর্থনীতির সর্বোত্তম স্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে, এবং এমন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সমর্থনে, ডলার সপ্তাহের শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের বিপরীতে হারানো মূল্য কিছুটা ফেরত পেয়েছে।

EUR/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1650 লেভেলে নিয়ে আসতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1680 লেভেলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1710 পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া এটি করা বেশ কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1740 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে। ট্রেডিং ইনস্ট্রুমেন্টটি দরপতন ঘটলে আমি কেবল মূল্য 1.1630-এর আশপাশে থাকা অবস্থায় বড় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার আশা করছি। সেখানে কেউ সক্রিয় না হলে, 1.1610-এর লেভেলে দরপতনের জন্য বা 1.1591 থেকে লং পজিশন ওপেন করার জন্য অপেক্ষা করাই শ্রেয় হবে।

GBP/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, পাউন্ডের ক্রেতাদের এটির মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3450-এ নিয়ে যেতে হবে নেয়া। কেবলমাত্র এই পেয়ারের মূল্য এই লেভেলে পৌঁছালেই 1.3480-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাবে, তবে এই লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়াটা যথেষ্ট কঠিন হবে। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3515 লেভেল নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের দরপতন হলে মূল্য 1.3420 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি ক্রেতাদের জন্য মারাত্মক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3390-এর লেভেলে নেমে পারে, যেখানে 1.3370 পর্যন্ত দরপতন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।