EUR/USD। সাপ্তাহিক পর্যালোচনা। চলতি সপ্তাহে ইউরোজোনে PMI/ZEW সূচক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জিডিপি ও কোর পিসিই সূচক প্রকাশিত হবে

ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব কমে যাওয়ার পর EUR/USD পেয়ারের ট্রেডাররা আবার সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের দিকে দৃষ্টিপাত করছে, যেগুলোর ফলাফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মার্কিন ডলারের পক্ষে কাজ করেছে। মার্কিন ডলার সূচক ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেলে উঠে এসেছে এবং প্রধান কারেন্সি পেয়ারেরগুলোর মূল্য সেই অনুযায়ী মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, গত সপ্তাহে EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.15-এ থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হয়েছে—যেখানে এই পেয়ারের মূল্য গত বছরের নভেম্বরের পর থেকে প্রথমবার পৌঁছেছে। W1 টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে এই পেয়ারের মূল্য পরপর তিন সপ্তাহ নিম্নমুখী মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। আগামী সপ্তাহে যদি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক সূচকগুলোর ফলাফল ডলার ক্রেতাদের হতাশ না করে, তা হলে টানা চতুর্থ সপ্তাহ ধরে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে।

মার্কিন গ্রিনব্যাকের জন্য চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হল বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি। ওই দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত জিডিপি (২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক), কোর PCE সূচক এবং আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদি প্রকাশিতব্য প্রতিটি প্রতিবেদনের ফলাফলই "ইতিবাচক" আসে, তাহলে ডলার উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাবে এবং EUR/USD পেয়ার বাড়তি চাপের সম্মুখীন হবে।প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশটির চূড়ান্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার 4.3%-এর আশেপাশেই থাকবে। সর্বসম্মত পূর্বাভাস এবং নাওকাস্ট মডেলগুলো (বিশেষত আটলান্টা ফেডের জিডিপি নাও) মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উল্লেখ্য যে শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং মোট রপ্তানি সূচকের ইতিবাচক ফলাফল জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সমর্থন যুগিয়েছে, যেখানে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বেশ স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। সামগ্রিক সূচকে সম্ভাব্য পতনের ঝুঁকিগুলো মূলত ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও মজুরি সূচকের পর্যালোচনার কারণে সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ বিশ্লেষক ধারণা করছেন এগুলোর কারণে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাবে না।অন্য কথায়, EUR/USD-এর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক সূচকটি সম্ভবত 4.3%-এ স্থির থাকবে, যা ডলারকে সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, 22 জানুয়ারি কোর PCE সূচকের নভেম্বরের ফলাফল জানা যাবে। উল্লেখ্য যে এটি ফেড কর্তৃক পর্যালোচিত অন্যতম প্রধান মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশক। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী সূচকটি অক্টোবরের 2.8% থেকে 2.7%-এ নেমে আসবে। দীর্ঘস্থায়ী শাটডাউনের কারণে নভেম্বরের প্রতিবেদন জানুয়ারিতে প্রকাশিত হচ্ছে; তবুও এটি ফেডের জানুয়ারির বৈঠকের আগে শেষ গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি নির্দেশক হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।উল্লেখযোগ্য অন্যান্য মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোতে মিশ্র ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে: ভোক্তা মূল্য সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ছিল, যেখানে উৎপাদক মূল্য সূচক ত্বরান্বিত হয়েছে। কোর PCE সূচক যেকোনো দিকে ভারসাম্য পাল্টাতে পারে—যদি এটি "ইতিবাচক" আসে তবে ডলার বাড়তি সহায়তা পাবে, আর যদি এটি "নেতিবাচক" (অর্থাৎ 2.7%-এর নিচে) ফলাফল প্রদর্শন করে তাহলে ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। বৃহস্পতিবারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হল আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস। গত সপ্তাহে প্রাথমিক ক্লেইমসের সংখ্যা মাত্র 198,000-এ পৌঁছেছে (ডিসেম্বরের শুরু থেকে সর্বনিম্ন)। পূর্বাভাস অনুযায়ী পরবর্তী সপ্তাহে এই সংখ্যা বেড়ে 203,000-এ পৌঁছাতে পারে। যদি পূর্বাভাসের বিপরীতে আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস 200,000-এর নিচে থাকে, তাহলে ডলার ব্যাপকভাবে সমর্থন পাবে। প্রকৃতপক্ষে 199,000 ও 200,000-এর মধ্যে পার্থক্য সামান্য, কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় এখানে বড় ভূমিকা পালন করবে।উল্লিখিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো মার্কিন মুদ্রার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্য দিকে, ইউরোর মূল্য PMI ও ZEW সূচকগুলোর ফলাফল দ্বারা প্রভাবিত হবে। সেইসাথে, ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডে এবং বুন্দেসব্যাংকের প্রধান জোয়াখিম নাগেলের বক্তব্য EUR/USD-এর মূল্যের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে—কিন্তু সেটি কেবল তখনই হবে যদি হকিশ/ডোভিশ অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দেন (যে সম্ভাবনা কম)।

প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, জার্মানির ZEW ইকোনোমিক সেন্টিমেন্ট সূচক 45.8 থেকে 49.9-এ উঠে আসবে। এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: যদি সূচকটির ফলাফল পূর্বাভাস অনুযায়ী (অথবা ইতিবাচক) হয় তাহলে এটি ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর হবে। ইউরোজোনের ইকোনোমিক সেন্টিমেন্ট সূচকও 33.7 থেকে 35.2-এ বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের জুলাই থেকে সর্বোচ্চ স্তর হবে।প্রধান ইউরোপীয় দেশগুলোর PMI সূচক থেকেও ইতিবাচক গতিশীলতার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, জার্মানির ম্যানুফ্যাকচারিং PMI সূচক 47.6 পয়েন্টে উঠার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। দুই-মাস পতনের পর "পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী" হওয়ার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানির পরিষেবা খাতের PMI ইতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যা 52.5 পর্যন্ত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এমন আশাব্যঞ্জক ফলাফল ইউরোকে সহায়তা প্রদান করবে এবং সেই অনুযায়ী EUR/USD পেয়ারের ক্রেতাদের পক্ষে কাজ করছে।

অতএব, চলতি সপ্তাহের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী EUR/USD পেয়ারের ট্রেডারদের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদি মার্কিন সামষ্টিক প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল ইতিবাচক হয়, তাহলে এই পেয়ার যথেষ্ট চাপের মুখে পড়বে, ইউরোপীয় প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল যতই ইতিবাচক হোক না কেন। সেই ক্ষেত্রে এই পেয়ারের মূল্য 1.1600-এর সাপোর্ট লেভেলের নিচে নেমে যেতে পারে (D1-এ কুমো ক্লাউডের নিম্ন সীমা) এবং পরবর্তীতে 1.1530 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে (W1-এ বলিঙ্গার ব্যান্ডের নিম্ন লাইন)। কিন্তু যদি মার্কিন জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হয়, কোর PCE সূচকের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মন্থর হয়, এবং আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস 200,000-এর অনেক উপরে আসে, তাহলে EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1650-রেজিস্ট্যান্সের দিকে যেতে সক্ষম হবে (D1-এ কুমো ক্লাউডের উপরের সীমা)।