মঙ্গলবারও খুব কম সংখ্যক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব, ক্লেইমেন্ট কাউন্টস এবং মজুরি সম্পর্কিত তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। জার্মানি ও ইউরোজোনে ZEW ইনস্টিটিউট থেকে ইকোনোমিক সেন্টিমেন্ট সূচক প্রকাশ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অবশ্যই যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মার্কেটের ট্রেডাররা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রতি অত্যন্ত দুর্বলভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং অস্থিরতার মাত্রাও নিম্নস্তরে রয়ে গেছে। এখনও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদিশিক নীতি ও বাণিজ্যযুদ্ধের উপর দৃষ্টিপাত করা হচ্ছে, যা 2026 সালের শুরু থেকে নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মঙ্গলবার কোনো ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, কিন্তু এমনও দেখা যাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিকগুলোর প্রতিও ট্রেডাররা প্রায়শই প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে না। ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের প্রভাবেও প্রায় কোনোই প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প কর্তৃক নতুন শুল্ক আরোপের কারণে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন ডলারের সামান্য দরপতন হয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতাই বিরাজ করছে।
মনে রাখবেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু যখন কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন অথবা ইরানে অভ্যুত্থানে হস্তক্ষেপের কথা বলছেন, তখন কি সেই দেশের মুদ্রাকে নিরাপদ বলা যায়? ট্রাম্প সম্ভবত তেহরানের বার্তা পাওয়ার পর ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন, যেখানে তেহরান বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে "যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়" হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন এটি আমেরিকার অংশ হিসেবে একটি নতুন অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত।
উপসংহার:চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যেরই সম্ভবত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ গতকাল ইউরো এবং পাউন্ডের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। আজ 1.1655–1.1666 এরিয়া থেকে ইউরোর ট্রেড করা যেতে পারে। আজ 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে পাউন্ড স্টারলিংয়ের ট্রেড করা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।