ট্রেডাররা ডাভোসে অনুষ্ঠেয় ট্রাম্পের ভাষণের অপেক্ষায় রয়েছে (EUR/USD পেয়ারের দর বৃদ্ধির এবং ইথেরিয়ামের দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে)

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংযুক্ত করার আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও ইইউর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোকে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং বর্তমানে একমাত্র নিরাপদ-বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সময়ে, গতকালের মতো সাম্প্রতিককালে নিরাপদ-বিনিয়োগ বলে বিবেচিত কিছু অ্যাসেটের মূল্যও কমে যাচ্ছে।

ফলে যেখানে স্বর্ণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে সহজে ও স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি, সেখানে ডলার ও ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর চাহিদা কেন লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাচ্ছে?

আমার দৃষ্টিতে এর প্রধান কারণ হলো—গ্রিনল্যান্ড সংকটের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সক্রিয়ভাবে মার্কিন সিকিউরিটিজ বন্ড বিক্রি করতে প্ররোচিত হতে পারে, যা তারা পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা হিসেবে কেনা শুরু করেছিল। এ ধরনের বিক্রয়ের প্রবণতার সম্ভাবনার কারণে মার্কিন ডেবট মার্কেটে ইতোমধ্যেই ট্রেজারিজ বন্ডের দরপতন হয়েছে এবং ফলশ্রুতিতে সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বাড়ছে। ইইউ-এর সম্ভাব্য এমন পদক্ষেপ ডলার-ভিত্তিক অ্যাসেটের আবেদন কমিয়ে দিচ্ছে, যা ফরেক্স মার্কেটে ডলারের দরপতনে রূপ নিয়েছে।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ICE ডলার সূচক 0.03% কমে 98.61 পয়েন্টে পৌঁছেছে। প্রধান ক্রিপ্টো অ্যাসেটগুলো মঙ্গলবারের দরপতনের পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার করছে, তবে এই রিবাউন্ডটি আংশিকভাবে মুনাফা গ্রহণের ফলাফল বলে মনে হচ্ছে—দরপতন থেকে স্থায়ীভাবে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা ফেরবার স্বচ্ছ সূচনা নয়।

আজ ট্রেডাররা ডাভোসে অনুষ্ঠেয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের দিকে দৃষ্টিপাত। পূর্বে ধারণা করা হচ্ছিল যে এই ফোরামে আলোচনার মুখ্য বিষয় হবে পশ্চিমা দেশগুলোর, বিশেষত ইউরোপের, ইউক্রেনকে প্রদেয় সহায়তা; এখন অবশ্য প্রত্যাশিতভাবেই প্রধান আলোচ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়টি।

ডাভোসের বক্তব্যের প্রভাবে মার্কেটে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে? আমি মনে করি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের জেদ কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র করবে, যা স্বর্ণের মূল্যকে আমার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা আউন্স প্রতি $5,000-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, এ প্রেক্ষাপটে ইউরোপ যদি ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করা শুরু করে, তবে ফরেক্স মার্কেটে মার্কিন ডলারের আরও দরপতন হবে এবং ক্রিপ্টো মার্কেটে চাহিদা কমবে।

EUR/USD পেয়ার

এই পেয়ারের মূল্য 1.1700-এর সাপোর্ট লেভেলের উপরে অবস্থান করছে। গ্রিনল্যান্ড সংকট নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এই পেয়ারের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে 1.1800–1.1810 এরিয়ার দিকে যেতে পারে। সম্ভাব্য বাই এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে 1.1705 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

ইথেরিয়াম

সপ্তাহের শুরু থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ইউরোপীয় পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের হুমকি ও গ্রিনল্যান্ড সংকটের প্রেক্ষিতে ইথেরিয়ামের তীব্র দরপতন হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে পুনরুদ্ধারের পর ইথেরিয়াম পুনরায় চাপের মুখে পড়তে পারে এবং এটির মূল্য 2,789.00-এর দিকে নামতে পারে। সম্ভাব্য সেল এন্ট্রি পয়েন্ট হিসেবে 2,933.34 লেভেল বিবেচনা করা যেতে পারে।