২২ জানুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা: GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার বেশ অস্থিরতার সাথে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। দিনের মধ্যে ট্রেডাররা কোন দিকের উপর ভিত্তি করে পাউন্ডের ট্রেড করবেন তা নির্ধারণ করতে পারেননি এবং প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংবাদগুলোও বারবার বিভিন্নভাবে মার্কেটকে প্রভাবিত করেছে। দিনের শুরুতে যুক্তরাজ্যে ডিসেম্বরের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেটির ফলাফল পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে প্ররোচনা দেওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য যে যুক্তরাজ্যের ভোক্তা মূল্য সূচকের হার বৃদ্ধি পেয়ে পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আসন্ন বৈঠকে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে দিনের প্রথমার্ধে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পাউন্ডের জন্য অনুকূল ছিল, তবু আমরা পাউন্ডের দরপতন হতে দেখেছি। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে অস্থিরতা শুরু হয়। ডাভোস ফোরামে ট্রাম্প দেরিতে উপস্থিত হন, জার্মান চ্যান্সেলরসহ অন্যান্য ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় একটি বৈঠক বাতিল করতে হয়, কিন্তু ন্যাটোর সেক্রেটারি-জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেন এবং যুক্তরাজ্য ও ইইউ-এর অন্যান্য দেশের ওপর পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া শুল্ক তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বুধবার ৫-মিনিট টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়, যেগুলো বেশ অনিশ্চিত ছিল। সকালে ইউরোপীয় সেশনের প্রায় অর্ধেক সময় এই পেয়ারের মূল্য স্থবির ছিল, তারপর হঠাৎ করে দরপতন শুরু হয়। এই মুভমেন্টকে কাজে লাগিয়ে 1.3437–1.3446 এরিয়াকে কেন্দ্র করে ট্রেড করে লাভ করা যেত। মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য আরও একবার ওই এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে, কিন্তু সেটিও অত্যন্ত বিশৃঙ্খল মুভমেন্ট ছিল।


বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে। মধ্যমেয়াদে ডলারের শক্তিশালী হওয়ার জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, তাই 2026 সালে আমরা কেবল এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা 2025 সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করছি, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালাই মার্কিন ডলারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বৃহস্পতিবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3403–1.3407-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446 এরিয়ার ওপরে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন শেষ হলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যৌক্তিক হবে, যেখানে মূল্যের 1.3484–1.3489-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ: 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3365, 1.3403–1.3407, 1.3437–1.3446, 1.3484–1.3489, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না কোনো ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজ সম্ভবত মার্কেটে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে, এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই স্বাভাবিক স্তরটিও যথেষ্ট কম ছিল।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।