মার্কিন স্টক মার্কেটের আপডেট, ২৬ জানুয়ারি: S&P 500 ও নাসডাক সূচকে নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে সাপ্তাহিক লেনদেন শুরু হয়েছে

গত শুক্রবার মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে মিশ্র ফলাফলের সাথে লেনদেন শেষ হয়েছিল। S&P 500 সূচক 0.03% বৃদ্ধি পেয়েছিল, সেইসাথে নাসডাক 100 সূচক 0.28% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ 0.58% হ্রাস পেয়েছে।

আজ ডলার অধিকাংশ প্রধান কারেন্সির বিপরীতে দরপতনের শিকার হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাজেট-বৈষম্য, সরকারি কার্যক্রমে শাটডাউনের ঝুঁকি এবং জাপানে কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত থাকার সম্ভাব্যতা—এসবই বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি ডলারের চাহিদাকে নেতিবাচক প্রভাবিত করেছে। নিরাপদ বিনিয়োগের খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাসেটগুলোর চাহিদার প্রেক্ষিতে স্বর্ণের দর প্রথমবারের মতো আউন্স প্রতি $5,000 ছাড়িয়েছে। দুর্বল ডলারের এশীয় মুদ্রাগুলো সুবিধা পেয়েছে : মালয়েশিয়ার রিংগিতের দর ২০১৮ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ওনের দর প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছেছে, এবং সিঙ্গাপুর ডলারের দর ২০১৪ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছেছে।

জাপানের শীর্ষস্থানীয় মুদ্রানীতি বিষয়ক কর্মকর্তা আতসুশি মিমুরার এক মন্তব্যের পরে ফরেক্স মার্কেটে অস্থিরতা তৈরি হয়—তাঁর মন্তব্যে টোকিও ওয়াশিংটনের সঙ্গে গভীর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে জানানো হয়েছিল। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সতর্ক করেছিলেন যে দেশটির সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেডের নীতিগত অবস্থান সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। যদি ট্রেডাররা এই সমন্বয়কে ডলারকে দুর্বল করার বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, বিশেষত ফেডের ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থানের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মিলিত হলে, তা ডলারের দরপতন ত্বরান্বিত করতে পারে। ট্রেডাররা নিউ ইয়র্ক ফেডের কার্যক্রমকেও এই সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছে যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক জাপানী কর্তৃপক্ষকে সরাসরি কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপে সহায়তা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কানাডার ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক চাপের মধ্যে ট্রেজারি বন্ডের দর সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও হংকংয়ের ইক্যুইটি সূচকগুলোর দরপতন হয়েছে।

একই সময়ে, উপরে উল্লেখিত তথ্য অনুসারে, স্বর্ণের দর আউন্স প্রতি $5,000 অতিক্রম করেছে—ট্রাম্পের শাসনামালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তন এবং সরকারি বন্ড ও কারেন্সি থেকে বিনিয়োগ উত্তোলনের ফলে স্বর্ণের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। রূপার দর 6%-এরও বেশি বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রত্যাশিতভাবেই কমোডিটি খাতের প্রতি আরো বেশি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার তীব্রতা, ডলারের ধারাবাহিক দুর্বলতা, উচ্চ লিকুইডিটি এবং ফেডের নিম্ন সুদের হার বজায় রাখার নীতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে।

আরও একবার মার্কিন সরকারি কার্যক্রমের শাটডাউনের আশঙ্কা প্রকট হয়েছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, রিপাবলিকানরা যদি ডিপার্টমেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল না কমালে তিনি বাজেটের বিরাট বৃহৎ অংশ বন্ধ করবেন। ট্রেডাররা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনী মোতায়েনের পর সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করছেন—এতে করে এই ধারণা আবারও জোরদার হচ্ছে যে দেশজুড়ে বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কড়া দমন-পীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারেন।

S&P 500 সূচকের টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, আজ ক্রেতাদের সূচকটির মূল্যের নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $6,914 অতিক্রম করাতে হবে। সূচকটির দর সেই লেভেল অতিক্রম করলে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সংকেত পাওয়া যাবে এবং $6,930-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। ক্রেতাদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো সূচকটির দর $6,946-এর ওপরে ধরে রাখা, যা ক্রেতাদের অবস্থানকে দৃঢ় করবে। ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিম্নমুখী মুভমেন্টের ক্ষেত্রে মূল্য

$6,896-এর আশপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এ লেভেল ব্রেক করে সূচকটির মূল্য নিচে নেমে গেলে দ্রুত সূচকটির দর $6,883-এ নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীভাবে $6,871-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।