XAG/USD-এর মূল্যের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস। বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছে

বুধবার রূপার দর $113 থেকে $114 এর মধ্যে ওঠানামা করেছে, এবং দিনের মধ্যে এটির মূল্য প্রায় 1.80% বৃদ্ধি পেয়েছে, উর্ধ্বমুখী মোমেন্টাম ও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে—মূলত ঝুঁকি গ্রহণ থেকে বিরত থাকার প্রবণতা ও ডলারের দরপতনের মধ্যে রূপার স্থিতিশীল চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে ডলারের দুর্বলতা তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে না, যার ফলে রূপার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে।

এই ধরণের মন্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মার্কিন প্রশাসন রপ্তানি খাতকে আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ডলারের দুর্বলতাকে হিসেবে সমর্থন করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এইরূপ মন্তব্যের ফলে ডলারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, ফলে ডলারের মাধ্যমে নির্ধারিত অ্যাসেটগুলোর দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ওয়াশিংটনের ব্যাপক রাজনৈতিক টানাপোড়নও রূপার দর বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে: বাজেট নিয়ে মতবিরোধ, বাণিজ্যযুদ্ধের শঙ্কা এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে অনিশ্চয়তা—এই বিষয়গুলো মার্কিন ডলারের প্রতি আস্থা কমাচ্ছে। এই ধরণের পরিস্থিতিতে মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়ভাবে মূলধন ধরে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে, অস্থিরতার সময় মূলধন ধরে রাখার লক্ষ্যে সুরক্ষা হিসেবে অস্থিরভাবে মূল্যবান ধাতুর পজিশন ওপেন করছে।

ফেডের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠকও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার 3.50% থেকে 3.75%-এ অপরিবর্তিত রাখবে। এর পরে একটি সংবাদ সম্মেলন এবং জেরোম পাওয়েলের বক্তৃতা অনুষ্ঠিত—যেখানে ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতির সংক্রান্ত ইঙ্গিত দেয়া হতে পারে। ফেড ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের সংকেত দিলে ডলার আরও দুর্বল হতে পারে এবং রূপার চাহিদা বাড়বে, কারণ রূপা বাস্তব পর্যায়ে সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল।

ভূ-রাজনৈতিক পটভূমিও নিরাপদ বিনিয়োগের খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাসেটে মূলধন প্রবাহে সহায়তা করছে, যা স্বর্ণের মূল্যের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেকেও স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বেশ কয়েকটি বড় সামরিক সংঘাতের সমাধান না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা রক্ষণাত্নক অবস্থানে রয়েছে; ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতি সমসাময়িক আগ্রহের ভিত্তিতে রূপার মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংক্ষেপে, রূপার দর তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও আরও দর বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, ডোভিশ বা নমনীয় মুদ্রানীতির বাড়তি প্রত্যাশা, এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—এসব বিষয় রূপার মূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। তবে এত তীব্র ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর পর্যায়ক্রমে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যেতে পারে, যার ফলে রূপার দরপতন ঘটতে পারে।

টেকনিক্যাল দিক থেকে, রূপার মূল্য ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছাবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; তবে দৈনিক চার্টের অসিলেটরগুলো ওভারবট জোনে রয়েছে, যা রূপার মূল্যের কনসোলিডেশনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করে।