মার্কিন ডলার সূচক (DXY): ফেডের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ ডলারকে দুর্বল করছে
মার্কিন ডলার সূচক (DXY), যা বিভিন্ন প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর নির্ধারণ করে, বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন লেভেলে অবস্থান করছে।
প্রত্যাশা অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে ফেডের দুইজন গভর্নর স্টিফেন মুর এবং ক্রিস্টোফার ওয়ালার উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতি বিরোধিতা জানিয়ে সুদের হার 25 বেসিস পয়েন্ট কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফেডের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল উল্লেখ করেছেন যে মূল্যস্ফীতি এখনও 2%-এর লক্ষ্যমাত্রার যথেষ্ট উপরে রয়েছে, যা ফেড কর্তৃক হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবুও, এই ধরনের মন্তব্য চলমান নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে ডলারকে সহায়তা প্রদান করতে ব্যর্থ হচ্ছে। মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছে যে ফেড অন্তত চলতি প্রান্তিকের শেষভাগ পর্যন্ত একই নীতিতে অটল থাকবে এবং সম্ভবত পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত একই অবস্থান বজায় থাকবে—যদিও ২০২৬ সালে দুইবার সুদহার হ্রাস করা হবে বলে মার্কেটে জোরালো প্রত্যাশা রয়েছে।
পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত এবং ফেডের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের প্রচেষ্টা ফেডের স্বাধীনতার ওপর ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক গৃহীত নীতিমালার ফলস্বরূপ সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বব্যাপী ডলারের ব্যবহার কমানোর জন্য ডিডলারাইজেশনের প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে ডলারের নেতিবাচক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উপরোক্ত সবগুলো বিষয়ই মার্কিন ডলার বিক্রির মূল কারণে পরিণত হয়েছে। মৌলিক পটভূমি বিক্রেতাদের পক্ষেই কাজ করছে এবং স্বল্পমেয়াদে ডলারের আরও দরপতনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করে।
টেকনিক্যাল দিক থেকেও দৈনিক চার্টের অসিলেটরগুলো নেগেটিভ এবং ওভারসোল্ড জোন থেকে বেরিয়ে এসেছে, যা ডলার সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতার পূর্বাভাস দেয়।
নিচের টেবিলে দৈনিক ভিত্তিতে প্রধান মুদ্রাগুলো বিপরীতে মার্কিন ডলারের দরের শতকরা পরিবর্তন দেখানো হয়েছে—যেখানে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।