কয়েক দিনের মধ্যে বিটকয়েনের মূল্য প্রায় $90,000 থেকে প্রায় $75,000 পর্যন্ত নেমে এসেছে এবং এই দরপতন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। স্পষ্টভাবেই ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে তীব্র বিয়ারিশ সাইকেল শুরু হয়েছে, এবং অনেক বিনিয়োগকারীই অনিশ্চিত যে কী কারণে এই ধরণের ব্যাপক দরপতন ঘটছে।
প্রথম কারণ হলো ফেডারেল রিজার্ভকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি। কেভিন ওয়ার্শকে ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার পর মার্কেটে ফেডের মুদ্রানীতি কঠোর হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওয়ার্শ মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে হকিশ বা কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত, এবং তাঁর নিয়োগ কঠোর আর্থিক নীতিমালার সংকেত দেয়, যা ক্রিপ্টোসহ ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর ওপর প্রভাব ফেলেছে।
দ্বিতীয় কারণ হলো বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামভিত্তিক ইটিএফ‑গুলো থেকে তীব্রভাবে বিনিয়োগ উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগ প্রবাহগুলো গত বছরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মূল চালিকাশক্তি ছিল, এবং নতুন প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ প্রবাহ ব্যতীত মার্কেটের আসন্ন পরিস্থিতি ম্লান হিসেবেই বিবেচনা করা যায়। জানুয়ারির মধ্যভাগ থেকে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামভিত্তিক এক্সচেঞ্জ‑ট্রেডেড ফান্ড থেকে বড় অংকের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের প্রবণতা ত্বরান্বিত হয়েছে, বিশেষত সর্বশেষ উইকেন্ডের আগে। সেই স্বয়ংক্রিয় ক্রেতাদের অনুপস্থিতির ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো পজিশন কমানো শুরু করলে বিক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে।
তৃতীয় কারণ হলো ফিউচার্স মার্কেটে লং পজিশনগুলোর লিকুইডেশন। গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট লেভেল ব্রেকের ফলে লং ফিউচার্স পজিশনগুলোর ব্যাপকভাবে ফোর্সড সেল শুরু হয়। স্বয়ংক্রিয় মার্জিন কলের ঝাঁকুনি নিম্নমুখী মুভমেন্কেট তীব্র করেছে।
চতুর্থ কারণ হলো ভূ‑রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার বৃদ্ধি। ইরান ও কিউবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সংক্রান্ত খবর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট থেকে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ উত্তোলনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সেইসাথে, ঐতিহ্যবাহী আতংকের কারণে বিক্রির প্রবণতা তো আছেই। অ্যাসেটের মূল্য যখন নিম্নমুখী হতে শুরু করে, ট্রেডারদের অনুভূতিও দ্রুত বুলিশ থেকে বিয়ারিশে বদলে যায়, যা আতঙ্কিত হয়ে বিক্রয়ের প্রবণতা ত্বরান্বিত করে এবং অ্যাসেটের মূল্যকে আরও নিম্নমুখী করে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, BTC‑এর ক্রেতারা এখন এটির মূল্যকে $78,200‑এ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যা সরাসরি $81,200 এবং এরপর $83,200‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্যের $85,600‑এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। ওই লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, বিটকয়েনের মূল্য $75,100‑এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে। মূল্য ওই এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে বিটকয়েনের মূল্য দ্রুত $72,100‑এর দিকে নেমে যেতে পারে, আর পরবর্তীতে প্রায় $68,900 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
ইথেরিয়ামের ক্ষেত্রে, $2,301‑এর উপরে স্পষ্টভাবে কনসোলিডেশন হলে $2,466‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে ইথেরিয়ামের মূল্যের $2,585‑এর যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। সেই লেভেল অতিক্রম করলে মার্কেটে বুলিশ সেন্টিমেন্ট শক্তিশালী হবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ পুনর্জাগ্রত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে, ইথারের মূল্য $2,159‑এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওই জোনের নিচে নেমে গেলে ইথেরিয়ামের মূল্য দ্রুত প্রায় $2,017‑এ নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে প্রায় $1,891 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
লাল লাইন সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে অথবা সক্রিয় মুভমেন্ট শুরু হতে পারে;সবুজ লাইন ৫০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;নীল লাইন ১০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;হালকা সবুজ লাইন ২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে।সাধারণত, অ্যাসেটের মূল্য এই মুভিং অ্যাভারেজগুলো অতিক্রম করলে বা পৌঁছালে মার্কেটের বর্তমান মোমেন্টাম থেমে যেতে পারে অথবা নতুন প্রবণতার সূচনা হতে পারে।