৫ ফেব্রুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা: EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার বেশ শান্তভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করা হয়েছে, যদিও বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন নয়, বরং মৌলিক প্রেক্ষাপট দিয়ে শুরু করা উচিত। গত রাতে জানা যায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পারমাণবিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেছে—কোনো পক্ষই আলোচনার গঠনগত বিষয় বা অবস্থান নিয়ে একমত হতে পারেনি। প্রথমে গত শুক্রবার ইস্তানবুলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তেহরান এই আলোচনা ওমানে সরানোর এবং কেবল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার প্রস্তাব দেয়, যেখানে অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের থাকার কথা ছিল না। ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে গতকাল ইরানীয় ভূখণ্ডে মার্কিন বিমান হামলার সম্ভাবনা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেড়ে যায়। পাশাপাশি, গতকাল ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে অঞ্চলটির মুদ্রাস্ফীতি কমে 1.7%‑এ নেমে এসেছে, যা ইউরোর দরপতনকে ঘটিয়েছে এবং নতুন করে ইসিবির মূল সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে—আজকের বৈঠকে না হলেও, কিন্তু নিকট ভবিষ্যতেই এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। সামষ্টিক ও মৌলিক প্রেক্ষাপটের শক্তিশালী প্রভাবে প্রেক্ষিতে দিনের বেশিরভাগ সময় এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা আরও বেশি থাকতে পারত।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট


বুধবার 5‑মিনিটের টাইমফ্রেমে কেবল একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার কারণে এই সিগন্যাল কাজে লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য 1.1830‑1.1837 এরিয়ার থেকে রিবাউন্ড করে, যা নতুন ট্রেডারদের তুলনামূলকভাবে সহজেই শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ দেয়। দিনের শেষের দিকে এই পেয়ারের প্রায় 20-25 পিপস দরপতন হয়, যা থেকে মুনাফা করা সম্ভব হয়। এই পজিশন হোল্ড করে রাখাও যেত, সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার মূল্যের 1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেত পারে।


বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশন অব্যাহত রয়েছে। মনে রাখবেন যে এই পেয়ারের মূল্যের সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদি তাই হয়, তাহলে ২০২৬ সালের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অতএব, আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ডলারের দরপতনের প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি বেশ নেতিবাচক, তাই আমরা ইউরোর মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি।

বৃহস্পতিবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1830‑1.1837 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করার পর নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন হোল্ড করে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1745‑1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745‑1.1754 এরিয়া থেকে পুনরায় রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যেক্ষেত্রে মূল্যের 1.1830‑1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ইভেন্ট, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্ভবত তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেবে না—সুতরাং ট্রেডাররা ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্যের দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।