১৩ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা: GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের ক্ষেত্রেও মূলত সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে করেছে, তবে অস্থিরতার মাত্রা সামান্য বেশি ছিল। সকালে যুক্তরাজ্য গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি এবং শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা আবারও ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রেতাদের হতাশ করেছে। তবে মনে যে ব্রিটিশ অর্থনীতির অবস্থা মার্কিন অর্থনীতির অবস্থার থেকেও নেতিবাচক রয়েছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য শুধুমাত্র এ কারণে বাড়ছে যে মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটছে। তাই গ্রেট ব্রিটেন থেকে আরও কিছু প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হবে এই বিষয়টি আশ্চর্যজনক ছিল না। চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি কেবল 0.1% প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে, এবং শিল্প উৎপাদন 0.9% সংকুচিত হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় দিনের মতো হ্রাস পেয়েছে, যদিও সপ্তাহের শুরুতে পাউন্ডের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। ডলারের দরপতনের জন্য এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারণ রয়েছে, কিন্তু মার্কেটের ট্রেডাররা নতুন করে ডলার বিক্রির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে না।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বৃহস্পতিবার 5-মিনিট টাইমফ্রেমে তিনটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যেগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর ছিল না। এটি লক্ষণীয় যে প্রকাশিত ব্রিটিশ প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল দিনের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টে কোনোই প্রভাব ফেলেনি; মার্কেটের ট্রেডাররা এই প্রতিবেদনগুলো উপেক্ষা করেছে, যেমনটি সাম্প্রতিক সপ্তাহ ও মাসগুলোতে অনেক প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও হয়েছে। 1.3643-1.3652 এরিয়ার আশেপাশের গঠিত প্রথম দুটি সিগন্যাল ভুল প্রমাণিত হয়েছে, এবং তৃতীয় সিগন্যাল কাজে লাগিয়ে ট্রেড করা উচিত ছিল না।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার জন্য সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, তবে কয়েক সপ্তাহ জুড়ে সক্রিয় মুভমেন্টের পর মার্কেট আবারও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ফিরে যাচ্ছে।

শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643-1.3652 এরিয়ার ওপরে কনসোলিডেশন করলে লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3741-1.3751-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, এবং 1.3975।শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। মনে রাখবেন যে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ফেডের মূল অগ্রাধিকার; তাই এই প্রতিবেদনটির ফলাফল প্রভাবে মার্কেটে তীব্র ওঠানামা সৃষ্টি হতে পারে এবং মার্কেটে পুনরায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।