১৯ ফেব্রুয়ারি কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা: GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করেছে। যদিও আমরা ২০২৬ সালে মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে কেবল দরপতনের প্রত্যাশা করছি, তবুও এটা বুঝতে হবে যে প্রতিদিন বা প্রতিসপ্তাহে মার্কিন ডলারের দরপতন হতে পারে না। সম্প্রতি ব্রিটিশ মুদ্রার উপর বেশ কয়েকটি নেতিবাচক কারণ প্রভাব বিস্তার করছে, যার ফলে আরেকটি নিম্নমুখী কারেকশন দেখা গিয়েছে। বর্তমান প্রবণতা বোঝার জন্য দৈনিক টাইমফ্রেমই যথেষ্ট। গতকাল যুক্তরাজ্যে জানুয়ারির মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, এবং এটির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক কমে 3%-এ নেমে এসেছে, যার ফলে আসন্ন বৈঠকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড মুদ্রানীতি নমনীয় করতে পারে। এর আগের দিন যুক্তরাজ্যের বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনও মূল সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। অতএব, এই সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ড যথাযথ কারণেই দরপতনের শিকার হয়েছে। তবু এর মানে এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু নিখুঁতভাবে চলছে এবং মার্কিন ডলারের আর দরপতন হবে না।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে EUR/USD পেয়ারের মতোই এই পেয়ারেরও দুইটি সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। প্রথমে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, কিন্তু সেই বাই সিগন্যালটি ফলপ্রসূ হয়নি। প্রায় আধঘণ্টা পরই ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে এবং দিনের শেষে নিকটতম সাপোর্ট এরিয়া 1.3484-1.3489-এ পৌঁছায়। ফলে নতুন ট্রেডাররা প্রথম ট্রেড থেকে লোকসান করতে পারেন, তবে দ্বিতীয় ট্রেড থেকে তা পুষিয়ে নিয়ে সামান্য লাভের সাথে দিনটি শেষ করতে পারতেন।

বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে এবং... একটি নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৬ সালেও ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, এবং এই কারণেই অপ্রত্যাশিতভাবে পাউন্ডের দরপতন হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3484-1.3489 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3484-1.3489 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হলে নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3437-1.3446-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। যুক্তরাষ্ট্রে কেবলমাত্র আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। আজ মার্কেটে অস্থিরতার মাত্রা কমে আসার সম্ভবনা রয়েছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।