USD/JPY: নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ, ২০ ফেব্রুয়ারি। গতকালের ফরেক্স ট্রেডের বিশ্লেষণ
USD/JPY পেয়ারের ট্রেডের বিশ্লেষণ এবং পরামর্শযখন MACD সূচকটি শূন্যের বেশ উপরে উঠে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 154.94-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা ডলারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে। 154.94-এর লেভেলের দ্বিতীয় টেস্টের সময় MACD সূচকটি ওভারবট এরিয়ায় ছিল, ফলে ডলার বিক্রির জন্য সেল সিগন্যালের পরিকল্পনা #2 কার্যকর করার সুযোগ পাওয়া হয়েছিল, কিন্তু এই পেয়ারের দরপতন ঘটেনি।
মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের দরপতন অব্যাহত রয়েছে এবং মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো ফলাফলের প্রতি মার্কেটে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে। অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো সহ প্রাথমিক জবলেস ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ইতিবাচক হওয়ায় মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইয়েনের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি এই সপ্তাহে পরিলক্ষিত ইয়েনের মূল্য হ্রাসের প্রবণতাকে আরও তীব্রতর করেছে। মার্কিন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের শক্তিশালীফলাফলের প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন অ্যাসেটে বিনিয়োগ করা শুরু করেছেন, যা সাধারণত ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ঘটায়। এ ধরনের মুভমেন্ট দুই দেশের মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার মধ্যে পার্থক্য প্রতিফলিত করে।
আজকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী জাপানের ভোক্তা মূল্য সূচক বৃদ্ধি পেয়ে 1.5%-এপৌঁছায়নি—বরং হ্রাস পেয়ে 1.5%-এ নেমে এসেছে—যা ব্যাংক অব জাপানকে সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে প্ররোচিত করেছে এবং ইয়েনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় ভিন্ন এই অপ্রত্যাশিত মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের প্রভাব দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জটিলতা চিত্রায়িত করে এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য একটি কঠিন কাজ তুলে ধরে—ব্যাংক অব জাপানকে একইসাথে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে।
মুদ্রাস্ফীতির হার 1.5%-এ নেমে আসায়, যা ব্যাংক অব জাপানের 2%-এর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, জাপানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। যতক্ষণ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতি চাপ দুর্বল রয়েছে, ততক্ষণ সুদের হারের পরিমিত বৃদ্ধিও ভোক্তা ব্যয়ের প্রবণতা ও বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং সাম্প্রতিক অর্জনগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এর ফলে ইয়েনের উপর আবারও নেতিবাচক চাপ বাড়তে পারে, কারণ তুলনামূলকভাবে নিম্ন রিটার্ন প্রদান করে এমন সুদের হার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে জাপানি মুদ্রাকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে, কারণে অন্যান্য কিছু দেশগুলোর অ্যাসেটে বিনিয়োগের ফলে উচ্চ লভ্যাংশ পাওয়া যায়।
দৈনিক কৌশলের ক্ষেত্রে আমি পরিকল্পনা #1 ও #2 বাস্তবায়নের উপর বেশি গুরুত্ব দেব।
বাই সিগন্যালপরিকল্পনা #1: আজ এই পেয়ারের মূল্য 156.04-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 155.42-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি USD/JPY পেয়ার কেনার পরিকল্পনা করছি। এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 156.04-এর লেভেলে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করব (এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি)। USD/JPY পেয়ারের কারেকশন এবং উল্লেখযোগ্য দরপতনের সময় এই পেয়ার ক্রয় করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 155.08-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ার কেনার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী দিকে নিয়ে যাবে। আমরা 155.42 ও 156.04-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: আজ এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 155.08-এর (চার্টে হালকা লাল লাইন) লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার পর USD/JPY পেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি, যা এই পেয়ারের দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 154.58-এর লেভেল (গাঢ় লাল লাইন), যেখানে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, সেই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস রিবাউন্ডের আশা করছি। যতটা সম্ভব উচ্চ লেভেলে থাকা অবস্থায় এই পেয়ার বিক্রি করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং সবেমাত্র শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময় মূল্য পরপর দুইবার 155.42-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 155.08 ও 154.58-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।
চার্টে কী কী আছে:হালকা সবুজ লাইন এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় করা যেতে পারে।গাঢ় সবুজ লাইনে টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশ করে, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। হালকা লাল লাইন এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয় করা যেতে পারে।গাঢ় লাল লাইনে টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার সময় ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন মূল্যায়নের জন্য MACD সূচক ব্যবহার করা উচিত।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উত্তম। যদি আপনি সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা হ্রাসের জন্য অবশ্যই স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন। স্টপ-লস অর্ডার ছাড়া ট্রেডিং করলে দ্রুত আপনার সম্পূর্ণ ডিপোজিট শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষত যদি আপনি অর্থ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা উপেক্ষা করেন এবং বেশি ভলিউমে ট্রেড করেন।মনে রাখবেন, সফল ট্রেডিংয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত ট্রেডিং পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, ঠিক যেমনটি উপরে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সেটি দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।