২৩ ফেব্রুয়ারি কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

সোমবার খুব বেশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন হিসেবে জার্মানির বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স প্রকাশিত হবে, তবে এটিকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করা হয় না। আমরা মনে করি গত সপ্তাহের ঘটনাগুলোই মার্কিন ডলারের দরপতন অব্যাহত রাখার জন্য যথেষ্ট, এবং এই সপ্তাহে শুল্কসহ ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে আরও সংবাদ আসতে পারে। ইউরোর মূল্য ডিসেন্ডিং চ্যানেল করে ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:


সোমবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে কেবল ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তৃতাকেই তুলে ধরা যেতে পারে। তিনি সম্ভবত ইসিবির মুদ্রানীতির ব্যাপারে তার অবস্থানের পরিবর্তন করবেন না, তবে তিনি পূর্বের চুক্তি লঙ্ঘন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত নতুন শুল্কের বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন এবং 2025 সালে ইইউ-এর উপর আরোপিত সকল শুল্কের বৈধতা প্রসঙ্গে আলোকপাত করতে পারেন। পাশাপাশি গুঞ্জন রয়েছে যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে ইইউ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে পারে — সবচেয়ে আগ্রহজনক পরিস্থিতি এখনই শুরুই হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতির থেকে আপাতত দৃষ্টি সরে গেছে।


উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে মার্কেটে বেশ সক্রিয় মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে, কারণ গত সপ্তাহের ঘটনাগুলো চলমান সপ্তাহেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আজ ইউরো 1.1830-1.1837-এর রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, আর ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3529-1.3543 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের মূল্য শক্তিশালী ও স্থায়ী বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি দেখছি না, যেখানে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।