উইকেন্ডের পর সোমবার শুধুমাত্র মার্কেটে ট্রেডিং শুরু হওয়ার সময় যুক্তিসঙ্গতভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। সারাদিন জুড়ে আবারও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে, যা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছেনা। তবে ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে বর্তমান প্রবণতা অনুসারে সবকিছুই যৌক্তিক। যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পাউন্ড অব্যাহতভাবে দরপতনের শিকার হচ্ছে, আর যেকোনো প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলারের মূল্য বাড়ছে। অতএব, টেকনিক্যাল দিক থেকে বর্তমান মুভমেন্টকে যুক্তিসঙ্গত বলা যেতে পারে, কিন্তু মৌলিক বা সামষ্টিক দিক থেকে তা প্রযোজ্য নয়। ফলে, আগের মতই আমরা কেবল এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি, কিন্তু মূল্য বৃদ্ধির জন্য অন্তত ট্রেন্ড লাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া দরকার। এই সপ্তাহে তুলনামূলকভাবে স্বল্প সংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করলেও মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। তাই এখন সবচেয়ে ভাল উপায় হলো মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে টেকনিক্যাল লেভেল ও এরিয়াগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করা।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টসোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে পাঁচটি ট্রেডিং সিগন্যাল তৈরি হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনের ঠিক শুরুতেই এই পেয়ারের মূল্য 1.3529-1.3543 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, পরে দরপতনের শিকার হয়ে 1.3484-1.3489 এরিয়া ব্রেক করে ফেলেছে। কিন্তু এই দরপতন দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। মাত্র 30 মিনিট পর একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়। তবুও শর্ট পজিশন থেকে মুনাফা হয়েছে। পরবর্তীতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3484-1.3489 এরিয়া থেকে আরও দুইবার বাউন্স করেছে, কিন্তু পরবর্তীতে আমরা কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট দেখতে পাইনি।
মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না, ফলে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ থেকে চলমান বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালের অব্যাহত থাকবে, যা এই পেয়ারের মূল্যকে অন্তত 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ মুদ্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে অনুকূল ছিল না, কিন্তু মার্কেটের ট্রেডাররা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক সংবাদগুলো উপেক্ষা করে চলেছে।
মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3484-1.3489 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3529-1.3543-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3484-1.3489 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3437-1.3446-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832, 1.3891-1.3912, 1.3975। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক ADP শ্রমবাজার প্রতিবেদন ছাড়া কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নির্ধারিত নেই বা আর কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে না। অতএব, আজ মার্কেটে খুব বেশি অস্থিরতার সম্ভাবনা নেই।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।