সোমবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে মূল্যের মুভমেন্টের ধরন কিছুটা ভিন্ন ছিল। সারাদিন ধরে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ওঠানামা করেছে এবং অস্থিরতার মাত্রাও বেশ উচ্চ ছিল। ফলস্বরূপ অনেকগুলো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে, এবং দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ইউরোর তুলনায় পাউন্ডের মূল্য আরও সক্রিয়ভাবে পুনরুদ্ধার করেছে। তবুও এই পুনরুদ্ধার মানে এই নয় যে ব্রিটিশ মুদ্রার সব সমস্যাই মিটে গেছে। গত দেড় মাসে প্রায় প্রতিটি ইভেন্ট বা প্রতিবেদন ব্রিটিশ পাউন্ডের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশ মুদ্রার মৌলিক পটভূমি খুব একটা নেতিবাচক নয়; আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে মার্কিন ডলারের মূল্যের এত আত্মবিশ্বাসী উত্থানের জন্য যথেষ্ট ভিত্তিও নেই। তবুও প্রতিবারই কোনো না কোনো নতুন ঘটনা মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ঘটায়। ইরানে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতটিও এমন একটি ইভেন্ট ছিল যার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পূর্বানুমান করা যাচ্ছিল না। যদি সোমবার মার্কিন ডলারের মূল্য না বাড়ত, তাতেও আমরা অবাক হতাম না, কারণ ট্রেডাররা গত দুই সপ্তাহ ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছিল ও সে ব্যাপারে প্রস্তুত ছিল।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টসোমবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ১০টিরও বেশি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। আমরা সবগুলো তালিকাভুক্ত করব না; কেবল বলব যে শুধুমাত্র ইউরোপীয় সেশনেই নতুন ট্রেডাররা মাত্র দুইটি ট্রেড থেকে প্রায় 120-130 পিপস উপার্জন করতে পারত। যেই মুহূর্তে এই পেয়ারের মূল্যের আরও সক্রিয় মুভমেন্ট শুরু হয়, মুনাফাও তাৎক্ষণিকভাবে করা গিয়েছিল। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে বিশৃঙ্খল মুভমেন্ট শুরু হওয়ায় কিছু সিগন্যাল ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম দিনের ট্রেডিংয়ে কেবল কারেন্সি মার্কেটেই নয়, সামগ্রিকভাবে অর্থবাজারের উপর দিয়ে একটি পূর্ণমাত্রার ঝড় বয়ে গেছে।
মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য প্রথমে ডাউনওয়ার্ড ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে এবং পরে সঙ্গে সঙ্গেই নতুন আপওয়ার্ড ট্রেন্ডলাইনও ব্রেক করে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই বলে আমরা 2025 থেকে শুরু হওয়া বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতার ধারাবাহিকতার প্রত্যাশা করছি, যা অন্ততপক্ষে এই পেয়ারের মূল্যকে 1.4000 পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সর্বিক পরিস্থিতি প্রায়শই ব্রিটিশ পাউন্ডের পক্ষে অনুকূল ছিল না, আর ট্রেডাররা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের নেতিবাচক সংবাদকে উপেক্ষা করেছে, ফলে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
মঙ্গলবার এই পেয়ারের মূল্য 1.3437-1.3446 এরিয়া ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন; যেখানে মূল্যের 1.3484-1.3489 এবং তার উপরের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3403-1.3407 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানে মূল্যের 1.3365 এবং 1.3319-1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3203-1.3212, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3643-1.3652, 1.3695, 1.3741-1.3751, 1.3814-1.3832। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই; তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে মার্কেটে অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।