গতকাল মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে আরেকবার তীব্র দরপতনের সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.94% হ্রাস পেয়েছে, নাসডাক 100 সূচক 1.02% হ্রাস পেয়েছে, এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.83% হ্রাস পেয়েছে।
আজ সকালে থাইল্যান্ডের স্টক মার্কেটে নাটকীয়ভাবে 8% দরপতন ঘটায় সূচকটিতে লেনদেন স্থগিত করা হয়, যা দেখিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার তীব্রতা কীভাবে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়—দেশটি বাহ্যিক নেতিবাচক প্রভাবের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, বিশেষ করে জ্বালানি সংক্রান্ত সংকটের ক্ষেত্রে। দেশটির তেল আমদানির নির্ভরতা তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। থাইল্যান্ডে স্টক মার্কেটের দরপতন কেবল বরফের চূড়ার অল্প একটু অংশ; এশিয়ান মার্কেটগুলোতেও ব্যাপকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের মেয়াদ ও প্রভাব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিয়ে আরো পূর্বাভাসযোগ্য ইন্সট্রুমেন্টে বিনিয়োগ করছেন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উদ্বেগজনক সংবাদ শিরোনামগুলো আগে স্টক মার্কেটে AI-চালিত আশাবাদকে যতটুকু সমর্থন করত তা কিছুটা ছাপিয়ে গিয়েছে এবং ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে।
যা ঘটছে তা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব কীভাবে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু দেশের অর্থনীতি সংঘাতের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরে আছে মনে হলেও তারা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্নতা, তেলের মূল্যের তীব্র ওঠানামা এবং সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা হ্রাসের মাধ্যমে চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো আধুনিক বিশ্বের আন্তঃসংযোগকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং দেখায় কীভাবে একটি স্থানীয় ভূ-রাজনৈতিক সংকট দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের রূপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সরাসরি পরিণতি হিসেবে বিবেচিত জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধিই পুনরায় মুদ্রাস্ফীতির বৃদ্ধি আশংকা বাড়িয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইক্যুইটি মার্কেটগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। অ্যাসেটের অবমূল্যায়ন ও ক্রয়ক্ষমতার পতনের সম্ভাবনার মুখে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি হ্রাস করছে, যা স্টক মার্কেটে নিম্নমুখী প্রবণতা আরও বাড়িয়েছে।
ফেডারেল রিজার্ভের হকিশ বা কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিটি আরও জটিল করে তুলেছে। স্টক মার্কেটে নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনার পরেও নীতিনির্ধারকরা আর্থিক নীতিমালা উল্লেখযোগ্যভাবে নমনীয়করণের কোনো সংকেত দিচ্ছেন না। ফেড কর্মকর্তাদের মন্তব্যগুলো আরও বেশি করে সুদের হার উচ্চ স্তরে বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে, যা বিদ্যমান মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে গৃহীত। কঠোর আর্থিক নীতিমালা বজায় রাখার এই অঙ্গীকার ইক্যুইটি ক্রেতাদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে এবং বন্ডসহ আরো সুরক্ষিত বিনিয়োগকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই ধরনের পরিস্থিতি সস্তা-অর্থের প্রবাহকে সীমাবদ্ধ করে দেয়, যা সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চালিত করে—ফলশ্রুতিতে ইক্যুইটি মার্কেটের অনুকূল পটভূমি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
S&P 500-এর টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরুর জন্য এবং সূচকটিকে $6,801-এর দিকে নিয়ে যেতে হলে ক্রেতাদের নিকটতম রেজিস্টেন্স লেভেল $6,784 অতিক্রম করাতে হবে। সূচকটির দর $6,819 লেভেলে পৌঁছালে মার্কেটে ক্রেতাদের অবস্থান আরও জোরদার হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, সূচকটির মূল্য প্রায় $6,769 লেভেলে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। সেই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে ইন্সট্রুমেন্টটির দর দ্রুত $6,756-এ নেমে যেতে পারে এবং $6,743-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।