স্বর্ণের মূল্য বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে $5,000-এর উপরে স্থিতিশীল হয়েছে

গতকাল স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন মার্কিন ডলারের দরপতন হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ষষ্ঠ দিনের মতো কোনো সমাধানের লক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধ চলমান রয়েছে। স্বর্ণের মূল্য 0.9% বেড়ে প্রতি আউন্স $5,180-এ পৌঁছেছে, যেখানে পূর্ববর্তী সেশনে এটির মূল্য 1% বৃদ্ধি পেয়েছিল।

স্পষ্টতই, নিজেদের মূলধন সুরক্ষিত রাখতে ট্রেডার ও বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়ভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাসেটে বিনিয়োগ করছেন। বিশেষত ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে স্বর্ণ ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়—যা বারংবার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যবান ধাতুটি ক্রয়ের প্রবণতা তীব্রভাবে বেড়েছে, বিশেষত যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ আকারে অভিযান চালিয়েছে।

তেহরানও থেমে থাকেনি। হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের উপর রকেট হামলা চালায়। সেই হামলাগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তা গুরুতর প্রভাব ফেলে। সবচেয়ে লক্ষণীয় হচ্ছে হরমুজ প্রণালী প্রায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে, উল্লেখ্য যে এখান দিয়ে সমুদ্রপথে তেলের বড় অংশ পরিবহন করা হয় এবং এটি কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

এর পরিণতি বহুমুখী। ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, এবং জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। স্বর্ণের মূল্য এই পরিস্থিতির মূল্য সুবিধাভোগীতে পরিণত হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে এটির মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আশংকায় বিনিয়োগকারীরা তাদের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ করছে এবং এমন অ্যাসেটে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন যা সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম এই প্রতিবেদনকে অস্বীকার করে জানিয়েছে যে তাদের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় যুদ্ধ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

চলতি বছরে স্বর্ণের মূল্য ইতোমধ্যেই প্রায় এক পঞ্চমাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্য খাতকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ঘটেছে। এই বছরের জানুয়ারির শেষে ধাতুটির মূল্য প্রতি আউন্স $5,595-এর ওপরে পৌঁছে রেকর্ড উচ্চতা স্পর্শ করেছিল।

সম্প্রতি ডলারের দরপতনও স্বর্ণকে সহায়তা করেছে, অনেক ক্রেতার কাছে এটি স্বর্ণকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। মার্কিন ডলার সূচক গত দুই দিন প্রায় 0.4% পতনের শিকার হয়েছে, যদিও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সূচকটি এখনও প্রায় 1% ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

টেকনিক্যাল পূর্বাভাস

স্বর্ণের ক্রেতাদের এটির মূল্যকে পরবর্তী প্রধান রেজিস্টেন্স $5,223-এ নিয়ে যেতে। ওই লেভেল স্পষ্টভাবে অতিক্রম করলে $5,317-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; যা অতিক্রম করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে প্রায় $5,416-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে, দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $5,137-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। ওই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর জন্য বড় আঘাত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $5,051 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা আরও বিস্তৃত হলে $4,975 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।