বৃহস্পতিবার অল্প কয়েকটি সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। সঠিকভাবে বলতে গেলে কেবল একটি প্রতিবেদন প্রকাশের কথা আছে, যা পুরোপুরিভাবে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজ আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস বা বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা মার্কেটের ট্রেডারদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে বলে মনে হচ্ছে না। গতকাল মার্কেটের ট্রেডাররা আবারও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন উপেক্ষা করেছে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:বুধবার ইসিবি বা ফেডের প্রতিনিধিদের বক্তৃতাগুলোকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার তেমন কোনো মানে নেই। ট্রেডাররা এখনও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কহীন সকল বিষয় উপেক্ষা করে চলেছে। গতরাতে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বক্তৃতা দেন, যেখানে তিনি পুনরায় অতি শীঘ্রই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন—যেটি তিনি নিজেই শুরু করেছিলেন। ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আরও দুই-থেকে-তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে যাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অচল করা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন যে আমেরিকা হরমুজ প্রণালী অবরোধমুক্ত করার ব্যাপারে আগ্রহী নয়, এবং এ বিষয়টি সেইসব দেশকে সামাল দিতে হবে যারা এই প্রণালী ব্যবহার করে তেল পরিবহন করে। যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি, অতি-শীঘ্রই যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য স্পষ্ট কোনো সংকেত নেই, এবং ট্রাম্প কার্যত হরমুজ প্রণালী বা তেলের দাম নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন।
চলতি সপ্তাহের শেষদিকের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যই যেকোনো দিকে মুভমেন্ট প্রদর্শন করতে পারে, কারণ মার্কেটের ট্রেডাররা এখনও শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক খবরের ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করছে, যা পূর্বাভাসযোগ্য নয়। ইউরো আজ 1.1527-1.1531 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3203-1.3212 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে। আমরা এখনও মার্কিন ডলারের স্থায়ী উর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনো সম্ভাবনা দেখছি না (শুধুমাত্র ভূ-রাজনীতি নয় সব কারণ বিবেচনায়), তবে নিকটমেয়াদে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিই কারেন্সি মার্কেটে মূল প্রভাব বিস্তার করবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।