ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে ট্রেডিংয়ের পরামর্শ, ৮ এপ্রিল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির খবরের পর বিটকয়েনের মূল্য তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য সাময়িকভাবে $72,600-এ পৌঁছেছিল, আর ইথেরিয়ামের মূল্য বেড়ে $2,270-এ পৌঁছেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা ও দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং তেহরানের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর তীব্র বৃদ্ধি শুরু হয়, যার মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটও রয়েছে। মার্কেটের বহু ট্রেডার নতুন করে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করেছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া এই অর্থহীন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে ছিলেন।

ওয়াশিংটনের অবস্থানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কেবলমাত্র মার্কেটকেই শান্ত করেনি, বরং অধিক অস্থিতাসম্পন্ন অ্যাসেটগুলোর প্রতি মূলধন প্রবাহকে তরান্বিত করেছে। ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাবলী ও ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতার প্রতি সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে শঙ্কিত ট্রেডাররা এখন পুনরুদ্ধার ও বৃদ্ধির সুযোগ দেখছেন।

সরাসরি সংঘর্ষ পরিত্যাগ করার এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে বদল আসতে পারে, যেখানে বলপ্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগ দেয়া হতে হতে পারে। এটি অনিশ্চয়তা কমায়—যা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটের প্রধান শত্রু। কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয় দেয় এবং সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতির ফলে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এই সিদ্ধান্তে কেবল বাইরের চাপই নয়, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ভূমিকা পালন করেছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিতে পারে, তাই উত্তেজনা প্রশমিত করা ও আপোষ করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তিসঙ্গত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যের উত্থান বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতার প্রত্যাবর্তনের সংকেত বলে মনে হচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের উল্লেখযোগ্য পুলব্যাকের উপর নির্ভর করে ট্রেডিং চালিয়ে যাব, দীর্ঘমেয়াদে মার্কেটে আরও শক্তিশালী বুলিশ প্রবণতা বিকাশের প্রত্যাশা করছি, যা এখনও অটুট রয়েছে।

স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিংয়ের কৌশল এবং শর্তাবলী নিচে দেয়া হল।

বিটকয়েন

বাই সিগন্যাল

পরিকল্পনা #1: বিটকয়েনের মূল্য $73,200-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে $72,000-এর এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি এটি কিনব। মূল্য $73,200-এর লেভেলে কাছাকাছি পৌঁছালে আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং রিবাউন্ডের ক্ষেত্রে অবিলম্বে শর্ট পজিশন ওপেন করব। ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে ক্রয় করার আগে, নিশ্চিত করুন যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের নিচে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর পজিটিভ জোনে রয়েছে।

পরিকল্পনা #2: যদি $71,400 লেভেলের ব্রেকআউট হয়ে মূল্য নিম্নমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটে কোন বিয়ারিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেলে থেকে বিটকয়েন কেনার আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং মূল্যের $72,000 ও $73,200-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সেল সিগন্যাল

পরিকল্পনা #1: বিটকয়েনের মূল্য $70,600-এর লেভেলে দরপতনের লক্ষ্যে $71,400-এর লেভেলে পৌঁছালে আমি এটি বিক্রি করব। মূল্য $70,600-এর লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে আমি বিটকয়েনের শর্ট পজিশন ক্লোজ করব এবং রিবাউন্ডের ক্ষেত্রে অবিলম্বে লং পজিশন ওপেন করব। ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে বিক্রির আগে নিশ্চিত করুন যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের উপরে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর নেগেটিভ জোনে রয়েছে।

পরিকল্পনা #2: যদি $72,000 লেভেলের ব্রেকআউট হয়ে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটে কোন বুলিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেলে থেকে বিটকয়েন বিক্রির আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং মূল্যের $71,400 ও $70,600-এর দিকে দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

ইথেরিয়াম

বাই সিগন্যাল

পরিকল্পনা #1: ইথেরিয়ামের মূল্য $2,312-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে $2,253-এর লেভেলে পৌঁছালে আমি এটি কিনব। মূল্য $2,312-এর লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে আমি ইথেরিয়ামের লং পজিশন ক্লোজ করব এবং রিবাউন্ডের ক্ষেত্রে শর্ট পজিশন ওপেন করব। ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে ক্রয় করার আগে, আমি নিশ্চিত করব যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের নিচে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর পজিটিভ জোনে রয়েছে।

পরিকল্পনা #2: যদি $2,224 লেভেলের ব্রেকআউট হয়ে মূল্য নিম্নমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটে কোনো বিয়ারিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেল থেকে ইথেরিয়াম কেনার আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং মূল্যের $2,253 ও $2,312-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সেল সিগন্যাল

পরিকল্পনা #1: ইথেরিয়ামের মূল্য $2,181-এর লেভেলে দরপতনের লক্ষ্যে $2,224-এর এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি ইথেরিয়াম বিক্রি করব। মূল্য $2,181 লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করব এবং রিবাউন্ডের ক্ষেত্রে অবিলম্বে লং পজিশন ওপেন করব। ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে বিক্রির আগে নিশ্চিত করুন যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের উপরে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর নেগেটিভ জোনে রয়েছে।

পরিকল্পনা #2: যদি মূল্য $2,253-এর লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ফলে মার্কেটে কোনো বুলিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেল থেকে ইথেরিয়াম বিক্রির আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং $2,224 ও $2,181-এর দিকে দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।