গতকাল স্বর্ণের মূল্যের ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সমাধান নিয়ে বাড়তি আশাবাদের কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষ দ্বিতীয় দফায় শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় বিনিয়োগকারীর মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এই কূটনৈতিক অগ্রগতি জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নতার কারণে সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছে—যা পূর্বে মার্কেটে চাপ সৃষ্টি করে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল।
স্বর্ণের মূল্য স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করছে, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রেখে প্রায় আউন্স প্রতি $4,850-এ স্থিতিশীল হয়েছে। গতকাল রেকর্ডকৃত 0.6% গুরুত্বপূর্ণ উত্থানের পর স্বর্ণের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পূর্ববর্তী ট্রেডিং সেশনেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপে বসার প্রাথমিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় স্বর্ণের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে, যখন এটির মূল্য 2%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এসব সংকেতকে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাসের সম্ভাবনা হিসেবে দেখেছেন—যখন ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।
চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার আগে উভয় দেশের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার সদিচ্ছা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোতে অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের উপর চাপ সৃষ্টি করা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা হ্রাস করেছে। ভোক্তা মূল্য সূচকের উত্থানের উদ্বেগের কারণে ট্রেডাররা প্রত্যাশা করছিল যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে পূর্বের স্তরে অপরিবর্তিত রাখবে বা বাড়াতে পারে—এর ফলে সুদবিহীন স্বর্ণের জন্য বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় 8% কমে গেছে, এবং যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে লিকুইডিটি সংকটের কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ করতে বাধ্য হয়েছিল।
বিশ্ববাণিজ্যকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গতকাল বলেছেন যে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক জুলাই পর্যন্ত পুনরায় প্রযোজ্য করা হতে পারে, যা সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বাতিল হওয়ার আগে বলবৎ ছিল। অবশ্যই গতবছরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত ব্যাপকমাত্রার শুল্ক স্বর্ণের মূল্যকে ক্রমশ রেকর্ড লেভেলে নিয়ে যাওয়ার একটি মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তথাপি, পারস্য উপসাগরকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রফতানি সীমিত করতে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, এবং তেহরানও আমেরিকান বাঁধা এড়াতে, ওই পানিপথে তেলের চালান সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বিবেচনা করছে।
বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী—ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যের নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $4,835 অতিক্রম করাতে হবে। এতে তারা স্বর্ণের মূল্যকে $4,893 পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ পারবে—যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,913 এরিয়া বিবেচিত হতে পারে। স্বর্ণের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $4,771-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; যদি তারা সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়, তাহলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,708 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এমনকি পরবর্তীতে $4,647 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।