গতকাল মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.24% হ্রাস পেয়েছে, আর নাসডাক 100 সূচক 0.26% হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.01% হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ইক্যুইটি মার্কেটের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্থবির হয়ে পড়েছে, যদিও সামগ্রিকভাবে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে; কারণ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ইরান সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে পারে এমন ইঙ্গিতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ বেড়েছে। তেল মূল্যেরও উপরও চাপ কমে সেছে।
MSCI অল কান্ট্রি ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স মঙ্গলবার 0.1% বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস এবং AI-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বাড়তি গতি এশিয়ার ইক্যুইটি মার্কেটগুলোকে সমর্থন যুগিয়েছে। গত সোমবার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমে গিয়েছিল, যখন সপ্তাহান্তে শান্তি আলোচনার বিষয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার স্টক সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতে পৌঁছায়, আর জন টার্নাসকে পরবর্তী সিইও হিসেবে ঘোষণা করার পর মার্কিন ট্রেডিং সেশনের শেষদিকে অ্যাপলের শেয়ারের দরপতন ঘটে।
বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর 0.7% কমে ব্যারেল প্রতি $94.81-এ নেমে এসেছে, কারণ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কূটনৈতিক অগ্রগতির প্রত্যাশায় মার্কেটে ইতিবাচক প্রবণতা বিরাজ করছে। ট্রেজারি বন্ড ও মার্কিন ডলার সূচক বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত ছিল।
আজ পুরো বিশ্ব পাকিস্তানের দিকে নজর রাখছে, যেখানে পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং ইসলামাবাদে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাব্যতা এখন উত্তেজনা প্রশমনে মূল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেখানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা থেকে স্পষ্ট কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি, ফলে অনিশ্চয়তা ও পুনরায় সংঘাত সৃষ্টির আশংকা বেড়েছে।
এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে মার্কিন ডলারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে এবং গত তিন সপ্তাহে এটির মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এক্ষেত্রে কয়েকটি ইক্যুইটি সূচকে সংঘাতের প্রভাবে সৃষ্ট দরপতন পুনরুদ্ধার হতে শুরু হয়েছে। এইরূপ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেডাররা এখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমবে বলে ধরে নিয়েই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সৃষ্ট ঝুঁকি কমার ফলে তেলের মূল্য কমলে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ইতিবাচক হয়, যা ইক্যুইটির মার্কেটের পক্ষে ইতিবাচক।
পাকিস্তানে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার ফলাফল সম্ভবত ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোতে সরাসরি এবং সিদ্ধান্তমূলক প্রভাব ফেলবে। কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বা অন্তত গঠনমূলক সংলাপের সম্ভাবনা দেখা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর দর আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, মার্কিন ডলারের দরপতন হতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পুনরুদ্ধার সমর্থন পাবে। বিপরীতভাবে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে মার্কেটে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হবে, জ্বালানির মূল্য বাড়াবে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে পুনরায় উদ্বেগ বাড়বে।
অন্যদিকে, স্বর্ণের দর প্রায় 0.6% হ্রাস পেয়ে আউন্স প্রতি প্রায় $4,800-এ নেমে এসেছে। রূপার দর প্রায় 1% কমে আউন্স প্রতি প্রায় $78.90-এ নেমে এসেছে, আর বিটকয়েনের মূল্য প্রায় $75,750-এ ফিরে এসেছে।
S&P 500‑এর টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, আজ ক্রেতাদের প্রধান কাজ সূচকটির মূল্যের নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $7,125 অতিক্রম করানো। এতে সূচকটির মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে এবং $7,138‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে। ক্রেতাদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে সূচকটির দর $7,156-এর উপরে বজায় রাখা, যা ক্রেতাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা হ্রাসের ফলে যদি নিম্নমুখী মুভমেন্ট দেখা যায়, তাহলে সূচকটির দর $7,106-এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। ওই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে দ্রুত ইনস্ট্রুমেন্টটির মূল্য $7,087-এ নেমে যেতে পারে এবং এর ফলে $7,066‑এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।