যখন MACD সূচকটি শূন্যের নিচের দিকে নামতে শুরু করছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 159.63 লেভেল টেস্ট করেছিল—যা মার্কিন ডলার বিক্রির জন্য একটি সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করে। ফলশ্রুতিতে এই পেয়ারের প্রায় 230 পিপস দরপতন ঘটে।
গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরের প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে, ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়িয়েছিল। উভয় সেক্টরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে, যা ভোক্তাদের স্থিতশীল আগ্রহ এবং কোম্পানিগুলোর আস্থা নির্দেশ করে।
তবু আজ ইয়েনের মূল্য উল্লেখযোগ্য সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে, যদিও জাপানের ভোক্তা মূল্য সূচক 1.5% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। ভোক্তা মূল্য সূচকের এই বৃদ্ধির ফলে ইয়েনের দর বৃদ্ধি পাওয়া উচিত ছিল, কারণ এতে ব্যাংক অব জাপান কর্তৃক মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। ঐতিহ্যগতভাবে সুদের হার বৃদ্ধিকে বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি উপাদান হিসেবে দেখা হয়, যা পরবর্তীতে জাতীয় মুদ্রার চাহিদা বাড়ায়।
উৎসাহব্যঞ্জক অর্থনৈতিক সংকেত থাকা সত্ত্বেও ট্রেডাররা ইয়েনে তাদের পজিশন বাড়াতে ইচ্ছুক নয় বলে মনে হচ্ছে। এর কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করছে। এই অঞ্চলজুড়ে ঝুঁকি বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ছে, যার প্রধান সুবিধাভোগী হচ্ছে মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাত্রা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি হ্রাস করে আরও নিরাপদ ও লিকুইড অ্যাসেট নির্বাচন করার প্রবণতা দেখায়। তাই অভ্যন্তরীণ ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও জাপানি ইয়েন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী কারেন্সিগুলোর বিপরীতে খুব শক্তিশালী হতে পারছে না।
দৈনিক কৌশল হিসেবে আমি মূলত পরিকল্পনা #1 ও পরিকল্পনা #2 বাস্তবায়নের উপর বেশি নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ এই পেয়ারের মূল্য 160.19-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 159.84-এর (চার্টে সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি USD/JPY পেয়ার কেনার পরিকল্পনা করছি। এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 160.19-এর লেভেলে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করব (এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি)। USD/JPY পেয়ারের কারেকশন এবং উল্লেখযোগ্য পুলব্যাকের সময় এই পেয়ার ক্রয় করা উচিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 159.74-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ার কেনার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী দিকে নিয়ে যাবে। আমরা 159.84 এবং 160.19-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: আজ এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 159.74-এর (চার্টে হালকা লাল লাইন) লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার পর USD/JPY পেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি, যা এই পেয়ারের দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 159.43-এর লেভেল (গাঢ় লাল লাইন), যেখানে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, সেই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস রিবাউন্ডের আশা করছি। যতটা সম্ভব উচ্চ লেভেলে থাকা অবস্থায় এই পেয়ার বিক্রি করা উচিত হবে, বিশেষ করে ইয়েনের মূল্য 160-এর লেভেলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায়। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার বিক্রি করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং সবেমাত্র শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময় মূল্য পরপর দুইবার 159.84-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি USD/JPY পেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 159.74 এবং 159.43-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।