জ্বালানি তেলের দর শুরুতে 2.5% বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে পরবর্তীতে মার্কিন নৌবাহিনী $380 মিলিয়ন মূল্যের তেলবাহী একটি ইরানি ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করার প্রতিবেদন প্রকাশের পর তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিমাণ 1.0% পর্যন্ত নেমে আসে। পারস্য উপসাগরে ঘটা এই ঘটনা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছিল, কারণ ওই তেল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কার্যক্রমকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছি—যাকে ওয়াশিংটন একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ও এটিকে "ডাকাতি" এবং "আগ্রাসন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তেহরান বারবার বলেছে যে যতক্ষণ ইরানি জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে "অবরোধ" এবং "ডাকাতি" অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। এই ঘটনার ফলে এই ধরনের অবস্থান আরও জোরালো হবে এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠবে।
অনেক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত কার্যক্রম ইরানের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কোনো বাস্তব চুক্তি আদায়ের লক্ষ্যে নয়, বরং সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করাই উদ্দেশ্য করা হচ্ছে। তাদের মতে, ওয়াশিংটনের মূল কৌশল হচ্ছে ইরানের অর্থনীতিকে দুর্বল করা এবং তেহরানকে পারমাণবিক প্রোগ্রাম ও আঞ্চলিক নীতির মূল বিষয়গুলো ছাড় দিতে বাধ্য করা। তবে এই কৌশলটি হিতে বিপরীত হতে পারে এবং ইরানে কঠোর মনোভাবকে আরও জোরদার করতে পারে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এর লক্ষণীয় একটি উদাহরণ হলো গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তৃতীয় মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার "জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ" মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নির্ধারিত দায়িত্বাধীন এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এটি সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
ফলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের জাহাজগুলোর সঙ্গে চলমান ঘটনাবলী মিলিত হয়ে উচ্চ মাত্রার অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এমন শঙ্কা রয়েছে যে অঞ্চলটি নতুন একটি উত্তেজনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে গুরুতর সংঘাত রোধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নাও হতে পারে।
জ্বালানি তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $100.40 লেভেলে পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে তেলের মূল্যের $106.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার সুযোগ পাওয়া যাবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $113.30 এর এরিয়া নির্ধারণ করা যায়। যদি তেলের দরপতন ঘটে, তাহলে মূল্য $92.50-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। তাঁরা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে, সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের দর $86.67 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে $81.37 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।