মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের বেশ মন্থর ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে টেকনিক্যাল কারণে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য একটি সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে আটকে রয়েছে। গতকাল এই পেয়ারের মূল্য আরও একবার এই চ্যানেলের নিচের সীমানা 1.3476-এর লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং অব্যাহত রয়েছে, এবং এখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3587-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আজ ও আগামীকাল মার্কেটে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও মৌলিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব তীব্রভাবে বাড়তে পারে, কারণ ইউরোজোন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সত্যিকার অর্থে ট্রেডাররা গত দু'মাস ধরে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বাইরে সকল গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট উপেক্ষা করেছে, কিন্তু এই ধরণের পরিস্থিতি সবসময় থাকবে না। অন্যদিকে, মার্কেটে ব্যাপক অস্থিরতা ও বিশাল মুভমেন্টের প্রত্যাশাও করা উচিত নয়, কারণ তিনটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্ভবত পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এখনও নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক সংবাদ আসেনি, এবং পুরো বিশ্ব আরও বেশি করে জ্বালানি সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টমঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3476-1.3489 এরিয়া অতিক্রম করেছিল, কিন্তু গঠিত সেল সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয়। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে একই এরিয়ায় একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার কারণে নতুন ট্রেডাররা খুব মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তবুও, এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আজও অব্যাহত থাকতে পারে, তাই লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই, তাই আমরা 2025 সালের বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা 2026 সালেও পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। আমরা ধারণা করছি যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার মাত্রা গুরুতরভাবে না বাড়লে গত দুই মাসে মার্কিন ডলারের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তবে পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে মাঝেমধ্যে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও সামগ্রিকভাবে মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব অনেকটা কমে গেছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3476-1.3489 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। গতকাল 1.3476-1.3489 এরিয়ায় গঠিত বাই সিগন্যালের ফলে ওপেন করা লং পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3476-1.3489, 1.3587-1.3598, 1.3695, 1.3741-1.3751।আজ যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, সেইসাথে জেরোম পাওয়েল শেষবারের মতো ফেডের প্রধান হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এছাড়াও দেশটিতে ডিউরেবল গুডস অর্ডার সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। সবথেকে আকর্ষণীয় ইভেন্টগুলো মার্কিন সেশনে নির্ধারিত আছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।