বৃহস্পতিবার EUR/USD পেয়ার আবারওপ্রবল দরপতনের শিকার হয়েছিল, তবে দ্রুতই এই পেয়ার সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করেছে। এর কারণ হচ্ছে দিনের প্রথমার্ধে ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যের সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, আর দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হতে পারে—এমন সংবাদ উঠে এসেছে। ফলে দিনের প্রথমার্ধে আমরা ইউরোর দরপতন এবং দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন ডলারের দরপতন হতে দেখেছি। যেমনটি আমরা সতর্ক করেছিলাম, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে এবং প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদই যেকোনো ধরণের মুভমেন্ট উসকে দিতে পারে। তবে ট্রেডাররা জানে না কখন নতুন তথ্য আসবে; তাই আমরা প্রায়শই এমন ধরনের অপ্রত্যাশিত মুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি যার কারণ কয়েক ঘণ্টা পরই স্পষ্ট হয়। বর্তমানে এখনই এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, তবে যদি বহুল-প্রত্যাশিত চুক্তি সংক্রান্ত তথ্যটি ভুয়া সংবাদ না হয়, তাহলে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত ইউরোর পক্ষে কাজ করতে পারে।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্টবৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কেবল একটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, ফলে ইউরো প্রায় 30 পিপস বেড়েছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রভাব বজায় থাকা সত্ত্বেও ও বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সারাদিন জুড়ে এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা অব্যাহত ছিল।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে পুরো এক মাস ধরে ইউরোর মূল্যের কারেকশন অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আবারও শুরু হওয়ার আশঙ্কায় পুনরায় মার্কিন ডলারের উত্থান শুরু হয়েছে; তবু আমরা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির আশা করছি না। বেশিরভাগ ট্রেডার মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলছে, আর ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট EUR/USD পেয়ারের একবার বাড়ছে আবার দরপতনের শিকার হচ্ছে।
শুক্রবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। শুক্রবার ইউরোজোনে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো প্রতিবেদনও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে কেবল মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা মনোভাব সূচকের দ্বিতীয় অনুমান প্রকাশিত হবে। ফলে আজ আবারও এই পেয়ারের মূল্যের স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।