বৃহস্পতিবার প্রথমে GBP/USD পেয়ারের দরপতন হয় এবং পরবর্তীতে দর বৃদ্ধি পায়। দিনের প্রধান সব প্রতিবেদনই ভূ-রাজনীতি বা যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত হওয়ায় EUR/USD এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্যের প্রায়ই একইরকম মুভমেন্ট অস্বাভাবিক নয়। তবে ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে চার্টে কোনো ফ্ল্যাট রেঞ্জ নেই। এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করার পর GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতাই বিরাজ করছে। এই সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মার্কিন ডলারের আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তত দু'বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং দেশ দুটির মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। শুক্রবারও কি একই পরিস্থিতি বজায় থাকবে? সেই সম্ভাবনা আছে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য থেকে হতাশাজনক কোনো খবর এলে। এই মুহূর্তে বেশিরভাগ বিষয়ই ব্রিটিশ মুদ্রার বিপক্ষে কাজ করছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে মোট ৩টি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। এশিয়ান সেশনের সময় সৃষ্ট প্রথম সেল সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া ব্রেক করলেও পরবর্তীতে বাউন্স করে এই এরিয়ার উপরে উঠে আসে। ফলত নতুন ট্রেডাররা দুইবার লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পায়, যার মাধ্যমে দিনের শেষে প্রায় 40 পিপস লাভ করা গিয়েছিল।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমনটি এই সপ্তাহে যা লক্ষ্য করা গেছে), তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। উল্লেখ্য যে মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বিরাজ করছে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজ আবারও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং সেইসাথে কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই; ফলে ট্রেডাররা শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে বেশি মনোযোগ দেবে। যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপারে কোনো আপডেট না আসে বা এর প্রভাব দুর্বল হয়, তাহলে সারাদিন জুড়ে অত্যন্ত স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।