২৯শে মে, শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। জার্মানিতে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনসহ একগুচ্ছ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। বিশেষ করে, দেশটিতে মে মাসের মুদ্রাস্ফীতির হার বর্তমান ২.৯% ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা পরোক্ষভাবে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বেগকেই নিশ্চিত করবে। তবে, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোজোনে আজ তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। সুতরাং, ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আবারও প্রভাব বিস্তার না করলে মার্কেটে স্বল্প ট্রেডিং কার্যক্রম দেখা যেতে পারে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:শুক্রবার অনুষ্ঠেয় ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে আনা পলসন এবং মিশেল বোম্যানের (ফেডারেল রিজার্ভ) বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে, উল্লেখ্য যে জুন মাসের বৈঠকে শুধুমাত্র ইসিবি-ই মূল সুদের হার পরিবর্তন করতে পারে। বর্তমানে এই ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই, কারণ মূল সুদের হার বাড়ালে তা ইউরোপীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে, যা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতোমধ্যেই মন্থর হতে শুরু করেছে। তাই, ফেডের মনিটারি কমিটির সদস্যদের বক্তব্যগুলো আকর্ষণীয় হলেও, এর বেশি কিছু নয়। ট্রেডাররা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে যে জুনে মূল সুদের হার পরিবর্তনের কোনো প্রত্যাশা করা উচিত নয়।
গত সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও আশাব্যঞ্জক হয়ে উঠেছিল, কিন্তু এই সপ্তাহে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র আবারও সংঘাত পুনরায় শুরু হয়েছে এবং আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছিল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, তা "খুবই সফল" হয়েছে। তবে, কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্য সম্পর্কে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সবুজ সংকেত আসেনি। মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হয় এবং বুধবার ইরানি আলোচক দলের একজন সদস্য জানান যে, পারমাণবিক জ্বালানির বিষয়টি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচ্য বিষয় নয়। বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। ইতিপূর্বে ঘোষিত চুক্তিটির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন মনে করেন, কোনো তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।
উপসংহার:চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিং, সারাদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত কোনো নতুন তথ্য না এলে উভয় কারেন্সি পেয়ারের বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে। আজ ইউরো 1.1655-1.1666 রেঞ্জে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3456-1.3476 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে। কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মূল প্রভাব বিস্তার করছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।