বুধবার GBP/USD পেয়ারের সামান্য দরপতন ঘটেছে, যা সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ISM পরিষেবা খাতের কার্যক্রমের সূচকের ইতিবাচক ফলাফলের সমন্বয়ে ঘটতে পারে। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা যা নিয়ে আলোচনা করেছি তা মনে রাখা জরুরি—ট্রেডাররা কখনও কখনও পৃথক ইভেন্ট বা প্রতিবেদনগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখায়, কিন্তু এটি নির্দিষ্টভাবে আলাদা করা কঠিন যে ট্রেডাররা সত্যিই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে নাকি আমরা কেবল মার্কেট নয়েজ দেখছি। গতকাল ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের প্রায় 50 পিপসের ওঠানামা পরিলক্ষিত হয়েছে। এটি খুবই কম। মার্কিন ডলারের দর সত্যিই কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বুধবারের ইভেন্টগুলোর প্রতি ট্রেডাররা প্রতিক্রিয়া (যদি থেকে থাকে) অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং তা বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলেনি। GBP/USD পেয়ারের মূল্য বেশ কয়েকবার 1.3456-1.3476 এরিয়া ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই টেকনিক্যাল কারণে এই পেয়ারের দরপতন হয়েছে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে। তদুপরি, আনুমানিক দেড় সপ্তাহ আগে এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হওয়ার কারণে পাউন্ডের দরপতন যৌক্তিক বলেই মনে হচ্ছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টবুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ওভারল্যাপিং সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় সেশনের সময় এই পেয়ারের মূল্য একাধিকবার 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে, কিন্তু কেবল মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের দরপতন শুরু হয়েছিল। তাই নতুন ট্রেডাররা একটি শর্ট পজিশন ওপেন করে সন্ধ্যার মধ্যে প্রায় 25 পিপস মুনাফা করতে পেরেছেন। এই ট্রেডটি বৃহস্পতিবারেও হোল্ড করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে এবং মূল্য ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমনটি এই সপ্তাহে যা লক্ষ্য করা গেছে), তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে।
বৃহস্পতিবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে পুনরায় বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা কম থাকায় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। আজও যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না এবং সেইসাথে কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জবলেস ক্লেইমস বা বেকারভাতার আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।