যখন MACD সূচকটি শূন্যের বেশ উপরে উঠে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3404-এর লেভেল টেস্ট করেছিল—যা এই পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করেছিল। এই কারণেই আমি পাউন্ড কিনিনি। 1.3404 লেভেলের দ্বিতীয় টেস্টের সময় MACD সূচকটি ওভারবট জোনে অবস্থান করছিল, ফলে পাউন্ডের সেল সিগন্যাল অনুযায়ী পরিকল্পনা #2 কার্যকর করার সুযোগ পাওয়া যায়। ফলস্বরূপ এই পেয়ারের মূল্য 40 পিপস কমেছে।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যা পরোক্ষভাবে মার্কিন ডলার ক্রয়ের প্রবণতাকে উৎসাহিত করেছে। পারস্য উপসাগরকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অনিবার্যভাবে বৈশ্বিক ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোকে প্রভাবিত করবে, অস্থিরতা সৃষ্টি করবে এবং ট্রেডারদের নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ধাবিত হতে উদ্দীপ্ত করবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত একটি দেশের কারেন্সি হিসেবে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৈশ্বিক ঘটনাবলীর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
আজ যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, ফলে পাউন্ডের খুব বেশি মূল্য বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা নেই। ব্রিটিশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বা স্থিতিশীলতার ব্যাপারে স্পষ্ট সংকেত না থাকায় ট্রেডাররা GBP/USD পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার জন্য পর্যাপ্ত যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না। সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের ফলাফলের প্রভাবে কারেন্সি মার্কেটে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, এবং এই ধরনের প্রতিবেদন না থাকলে তা মার্কেটে অনিশ্চয়তা তৈরি করে, যা সাধারণত পাউন্ডসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রেডারদের মনোযোগ স্বাভাবিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে সরে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে এবং নিরাপদ বিনিয়োগের খ্যাতিসম্পন্ন অ্যাসেটগুলোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে আমি প্রধানত পরিকল্পনা 1 ও 2 বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3409-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.3389-এর (চার্টে হালকা সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি পাউন্ড কেনার পরিকল্পনা করছি। মূল্য প্রায় 1.3409-এর লেভেলের আশেপাশে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, উল্লিখিত লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। আজ শুধুমাত্র কারেকশনের অংশ হিসেবে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার কেনার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.3377-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ পাউন্ড কিনতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। 1.3389 এবং 1.3409-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3377-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি, যা GBP/USD-এর দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.3352-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার আশা করছি। আজ যেকোনো সময় পাউন্ডের উপর চাপ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ার বিক্রির আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.3389-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ পাউন্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী দিকে নিয়ে যাবে। 1.3377 এবং 1.3352-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করা যেতে পারে।