যখন মার্কেটে ব্যাপকভাবে হতাশাবাদী মনোভাব বিরাজ করে, সাধারণত তখনই বিটকয়েনের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। ইটিএফ থেকে মূলধনের বহিপ্রবাহ, বর্ধিত ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, ট্রেজারি বন্ডের ক্রমবর্ধমান ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ, ডিজিটাল অ্যাসেটের প্রতি আগ্রহের পতন এবং আমেরিকাকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে পরিণত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অক্ষমতা—এই সবই BTC/USD-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশাজনক পূর্বাভাসের মূল কারণ। মার্কেটে আরেকটি ক্রিপ্টো উইন্টার শুরু হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এই ধরনের সময়ে ক্রিপ্টো টোকেনগুলোর মূল্য সাধারণত ৮০% পর্যন্ত কমে যায়। এবার, বিটকয়েনের মূল্য রেকর্ড উচ্চতা থেকে মাত্র ৫০% কমেছে।
পূর্বের ক্রিপ্টো উইন্টারগুলোতে বিটকয়েনের দরপতনের গতিশীলতাবিটকয়েন-কেন্দ্রিক ইটিএফ থেকে ১৩ দিন ধরে চলা মূলধন বহিপ্রবাহের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ ছিল, যে সময়ে বিশেষায়িত ফান্ডভিত্তিক স্টকগুলো থেকে রেকর্ড ৫.৫ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে যায়। বিনিয়োগকারীরা স্পেসএএক্সের আসন্ন প্রাথমিক আইপিও-এর জন্য মূলধন সংরক্ষণ করছিলেন। এই প্রক্রিয়া সফল প্রমাণিত হওয়ার পর, ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর চাপ কমে যায় এবং BTC/USD-এর মূল্য বেড়ে যায়।
১২ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে, ২০২২ সালে এফটিএক্স এক্সচেঞ্জের পতনের পর থেকে বিটকয়েনের সবচেয়ে ব্যাপক দরপতন ঘটে। এর একটি কারণ ছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র সংঘাত চলাকালীন সময়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিটকয়েন একটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট হিসেবে ট্রেড হয়েছিল। ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা BTC/USD-এর উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। তাই, মার্কিন-ইরান চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সাথে সাথেই ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য বেড়ে যায়।
বিটকয়েনের মূল্যের সাপ্তাহিক গতিশীলতাএতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ জ্বালানি তেল খাতকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির এবং ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক মুদ্রানীতি কঠোর করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধরনের প্রেক্ষাপটে সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের উপর চাপ সৃষ্টি হয়, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয় এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বৃদ্ধি পায়। ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস পাওয়ায় সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। বিটকয়েনের সাথে ধীরে ধীরে স্টক সূচকের পারস্পারিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হবে এবং বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমান বিটকয়েন সাইকেলের বটম লেভেলটি ইতোমধ্যেই দেখে ফেলেছেন। স্পেসএক্সের প্রাথমিক আইপিও সম্পন্ন হলে ক্রিপ্টোভিত্তিক বিশেষায়িত এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডগুলো থেকে মূলধন বহিপ্রবাহ বন্ধ হবে এবং এই প্রবণতা বদলাবে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সমাধানের ফলে মার্কিন ডলার দুর্বল হবে, ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ কমবে এবং S&P 500 সূচকের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে।
মার্কেটের ট্রেডাররা এখন ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে ফেডের নতুন চেয়ারম্যান, কেভিন ওয়ার্শ, এই বিষয়টির ওপর জোর দেবেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির এই বৃদ্ধি সাময়িক। এতে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা পুনরুজ্জীবিত হবে এবং BTC/USD-এর মূল্য বৃদ্ধি। তবে, যেকোনো কঠোর মুদ্রানীতির অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দরপতন ঘটাবে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিও এর ব্যতিক্রম হবে না।
টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, দৈনিক চার্টে বিটকয়েনের মূল্যের 1-2-3 রিভার্সাল প্যাটার্নের সাথে একটি রিট্রেসমেন্ট হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য ফেয়ার ভ্যালু 63,500-এর উপরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মার্কেটে বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে। এই পরিস্থিতিতে BTC/USD-এর লং পজিশনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই যুক্তিযুক্ত হবে।