১৬ জুন কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত? নতুন ট্রেডারদের জন্য ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ

সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

মঙ্গলবারে অল্প কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, এবং সেগুলোর কোনোটিই তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ZEW অর্থনৈতিক প্রত্যাশা সূচক প্রকাশিত হবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সাপ্তাহিক ADP প্রতিবেদনের পাশাপাশি ভবন নির্মাণের অনুমোদন এবং আবাসন নির্মাণ সূচনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে। আমরা এই প্রতিবেদনগুলোকে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করছি, এবং সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে যে, ফেডারেল রিজার্ভ ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মার্কেটে পজিশন ওপেন করার ব্যাপারে কোনো তাড়া দেখা যাচ্ছে না।

ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কিছুই নেই। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং উক্ত বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধি করা হলে তা মার্কেটে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। ইউরোর মূল্য বাড়েনি এবং ট্রেডাররা এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্যকে পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করেছে, যা "কঠোর" আর্থিক নীতিমালা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই সপ্তাহে ফেড এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, তাই আর্থিক নীতিমালা সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা এই মুহূর্তে মুদ্রানীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। সম্ভবত উভয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকই মূল সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে, কিন্তু ট্রেডাররা ট্রাম্পের কাছ থেকে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া সংক্রান্ত বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই জানতে পারেনি। এই তথ্য কি নিশ্চিত? মার্কিন ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা, তা এর উপরই নির্ভর করবে। মনে করিয়ে দেওয়া যাক যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুই মাস ধরে ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই, সোমবার রাতে ট্রাম্পের বিবৃতিতে মার্কেটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, তা সতর্ক ছিল। শুক্রবার চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলেও, ট্রেডাররা সন্দিহান যে এই চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো 'পারমাণবিক কর্মসূচী' সংক্রান্ত অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় খুঁজে পাবে কিনা।

উপসংহার:

চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের বেশ মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, কারণ সোমবারের ভূ-রাজনৈতিক খবর মার্কেটে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি এবং আজও কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না। আজ ইউরো 1.1584-1.1594 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে ট্রেডিং করা যেতে পারে। কারেন্সি মার্কেটে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই মূল প্রভাব বিস্তার করছে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।