যখন MACD সূচকটি শূন্যের বেশ নিচে অবস্থান করছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.1597 লেভেল টেস্ট করেছিল—যা এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করছিল। এই কারণে আমি ইউরোর সেল পজিশন ওপেন করিনি। একই লেভেলের দ্বিতীয় টেস্টের ক্ষেত্রে বাই সিগন্যালের পরিকল্পনা #2 কার্যকর করার সুযোগ পাওয়া যায়, যার ফলে ইউরোর মূল্য 20 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ দিনের প্রথমার্ধে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে রয়েছে যা ইউরোর উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত ইউরোজোনের ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে যার মধ্যে কোর CPI অন্তর্ভুক্ত। এই সূচক মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ধারণের প্রধান নির্দেশক এবং ট্রেডাররা সূচকটির ফলাফল ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ইউরোপীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি, এবং সূচকটির মূল ফলাফলে পূর্বাভাসের তুলনায় যেকোনো বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তা তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বেশ সতর্ক, এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী ভোক্তা মূল্য সূচকের হার পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হলে। যদি প্রকৃত ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তাহলে আমরা মার্কেটে বড় ধরনের বাজার মুভমেন্টের আশা করছি না; অর্থাৎ সম্ভবত খুব বেশি অস্থিরতা ছাড়াই মার্কেটের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় থাকবে।
মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের পাশাপাশি, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের বক্তব্যও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতির দৃষ্টিভঙ্গি এবং মুদ্রানীতিতে সম্ভাব্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ সম্পর্কে তার মন্তব্য স্বল্পমেয়াদে মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত যে ইসিবির বৈঠক সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সুদের হার বৃদ্ধি করা হয়েছে; তাই আজ লাগার্ডের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
দৈনিক কৌশল হিসেবে আমি প্রধানত পরিকল্পনা #1 ও #2 বাস্তবায়নের ওপর বেশি মনোযোগ দেব।
পরিকল্পনা #1: আজ যখন ইউরোর মূল্য 1.1663-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.1621-এর (চার্টে সবুজ লাইন দ্বারা চিহ্নিত) লেভেলে পৌঁছাবে, তখন আপনি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করতে পারেন। মূল্য 1.1663-এর লেভেলে গেলে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করব। আজ শুধুমাত্র ইউরোজোনে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং সেখান থেকে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: আজ MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1601-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি ইউরোর লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। আমরা 1.1621 এবং 1.1663-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1601-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করার করার পরিকল্পনা করছি। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.1560-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি সেল পজিশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি এবং এন্ট্রি পয়েন্ট থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপসের মুভমেন্টের উপর নির্ভর করে ইউরোর বাই পজিশন ওপেন করব। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে এই পেয়ারের উপর চাপ ফিরে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ: শর্ট পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.1621-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ ইউরোর শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী করবে। আমরা 1.1601 এবং 1.1560-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করতে পারি।