মার্কিন-ইরান আলোচনার প্রথম অধিবেশন সতর্ক ও ইতিবাচক ফলাফলের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে, এই খবর প্রকাশের পর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মার্কিন ডলারের সামান্য দরপতন হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উক্ত আলোচনায় উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা জানানো হয়েছে। উভয়পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য একটি কর্মপরিকল্পনার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছে।
অস্পষ্ট বিবৃতির চেয়ে আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো বেশি আশ্বস্তজনক। উভয়পক্ষ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে সংঘাত নিরসন সমন্বয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, কারণ লেবানন পরিস্থিতি ঘিরে বারবার পুরো চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ইতোমধ্যে যা যা অর্জন করা হয়েছে তার একটি তালিকা দিয়েছেন: তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি পুনরায় শুরু হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে, জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ অবমুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানকে পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তথাপি, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর পথটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ থাকবে, যা রবিবারের ঘটনায় স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আলোচনা শুরু হয়েছিল বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে: ইরানের গণমাধ্যম খবর দেয় যে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা অব্যাহত রাখায় ট্রাম্পের আরেকবার হামলার হুমকির পর আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, তিনি ইরানের নেতাদের সরাসরি বলেছেন, যদি তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, "তাহলে তোমরাও আর ইরানে আর ফিরতে পারবে না"। তিনি আরও হুমকি দেন যে, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য মাশুল আরোপ করা হবে। কূটনৈতিক আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানের প্রতিনিধিদল উদ্বোধনী টেলিভিশন ভাষণে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আলোচনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁরা কক্ষে উপস্থিত ছিল না—তেহরান চায়নি যে কোনো চুক্তি হওয়ার আগে তারা আমেরিকানদের সাথে করমর্দন করুক।
যেমনটি আমি আগেই উল্লেখ করেছি, শান্তি চুক্তির পুরো কাঠামোর মূল বিষয় হলো লেবানন এবং ইসরায়েলের সংঘাত। এক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে, এবং শুধুমাত্র লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারই চুক্তি বহাল থাকার পূর্ণ নিশ্চয়তা দিতে পারে, যেটিতে নেতানিয়াহুর রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। একই সময়ে, ইসরায়েলও এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেনি এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত দেশটি লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে। এটি একটি দুষ্টচক্র: ইরান লেবাননে সংঘাত বন্ধের দাবি করছে, ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে এমন এক মিত্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে খুঁজে পেয়েছে যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এবং সেইসাথে এমন এক প্রতিপক্ষের মাধ্যমে, যার সাথে আলোচনা চলছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং লেবাননের মীমাংসা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে ৬০ দিনব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই সপ্তাহে ট্রেডারদের জন্য প্রধান ইভেন্ট হবে মার্কিন পিসিই সূচক— এই সূচকের ফলাফল নির্দেশ করবে যে সুদের হারের ব্যাপারে ফেডারেল রিজার্ভের হকিশ বা কঠোর অবস্থান কতটা যৌক্তিক।
EUR/USD পেয়ারের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1485 লেভেলে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কেবল এর ফলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1530 লেভেল টেস্টের সুযোগ উন্মুক্ত হবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1590-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যেতে পারে, তবে বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া এটি করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। যদি এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্টের দরপতন হয়, তাহলে এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 1.1450-এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় আমি ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করছি। সেখানে কেউ সক্রিয় না হলে এই পেয়ারের 1.1425-এ দরপতনের পর্যন্ত অপেক্ষা করা বা 1.1385 থেকে লং পজিশন ওপেন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
GBP/USD পেয়ারের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, পাউন্ডের ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স 1.3250-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। শুধুমাত্র তাহলেই এই পেয়ারের মূল্যের 1.3285-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়বে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3325 এরিয়া নির্ধারণ করা যায়। দরপতনের ক্ষেত্রে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3200-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবেন; যদি তারা সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে তা বুলিশ পজিশনে গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3160 লেভেলের দিকে নেমে যেতে পারে, সেইসাথে 1.3131 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।