মঙ্গলবারে বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর সবই প্রায় একই ধরনের। জার্মানি, ইউরোজোন, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসের সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হবে। উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ আইএসএম বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হয়, যেটিকে ট্রেডাররা S&P সূচক থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। সুতরাং, ইউরোপীয় সূচকগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে, যেগুলো কাছাকাছি সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:মঙ্গলবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি বরিস ভুজচিচ এবং ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি স্বাতী ধিংরার বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। তবে, এটা মনে রাখা উচিত যে দুই সপ্তাহ আগেই ইসিবি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এবং ফেডারেল রিজার্ভ গত সপ্তাহে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছাড়াই তাদের বৈঠক শেষ করেছিল। সুতরাং, এত অল্প সময়ের মধ্যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের অবস্থানের ব্যাপক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম, যার ফলে আমরা তাদের বক্তব্য থেকে নতুন কিছু জানতে পারব সেই সম্ভাবনা নেই।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ধারাবাহিকভাবে "শর্তসাপেক্ষে ইতিবাচক" রয়েছে। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে, "পারমাণবিক কর্মসূচীর" ব্যাপারে চুক্তির বর্তমান খসড়ায় তেমন কিছুই উল্লেখই করা হয়নি। ঠিক এই বিষয়টিই যুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল এবং যেকোনো মুহূর্তে তা পুনরায় শুরু করতে পারে। সপ্তাহান্তে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং কিছু প্রাথমিক অগ্রগতিও সাধিত হয়েছে। তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে চলেছেন এবং ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী অবরোধ করার কথা ভাবছে, ফলে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ ও উত্তপ্ত রয়েছে। আলোচনা অব্যাহত আছে, কিন্তু এর চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।
উপসংহার:চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, গত সপ্তাহের দরপতনের পর উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের কারেকশন শুরু হতে পারে। ইউরো 1.1455-1.1474 এরিয়া এবং 1.1413 লেভেল থেকে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3259-1.3267 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, ট্রেডাররা অযৌক্তিকভাবে মার্কিন ডলার ক্রয় করছে, যা বিক্রেতাদের জন্য মার্কেট মেকারদের পাতা একটি ফাঁদ হতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।