মঙ্গলবারেও GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে গতকাল সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি ইনডেক্স প্রকাশিত হয়েছিল, যেগুলোর ফলাফল আশানুরূপ ছিল না। তাত্ত্বিকভাবে এসব সূচকের ফলাফল ব্রিটিশ মুদ্রার দরপতনে ঘটাতে পারত, কিন্তু আমাদের মতে এই দুটি বিষয় পারস্পারিকভাবে সংযুক্ত নয়। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের সময় থেকে GBP/USD পেয়ারের দরপতন শুরু হয়েছিল, যখন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ট্রেডারদের প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য বেশি "হকিশ বা কঠোর" অবস্থান গ্রহণ করেছিল। ট্রেডাররা ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকের কিংবা ব্রিটেনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফলকে ততটা গুরুত্ব দেয়নি। ফলে আমরা বর্তমানে থেমে থেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নগামী প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি—ট্রেডাররা বিক্রি করছে কারণ এই পেয়ারের মূল্য কমছে, এবং এই পেয়ারের মূল্য কমছে কারণ ট্রেডাররা ক্রমাগত বিক্রি করছে। এ পর্যন্ত এই পেয়ারের মূল্য 1.3180 লেভেল অতিক্রম করতে পারেনি, তাই সম্ভাবনা আছে যে ব্রিটিশ মুদ্রার এই দরপতন এখানেই শেষ হতে পারে। তবে ইউরোরও দরপতন হচ্ছে এবং এর প্রভাবে পাউন্ডের আরও দরপতন হতে পারে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টমঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে প্রথম ট্রেডিং সিগন্যালটি দিনের শেষভাগে গঠিত হয়। তবে পূর্ববর্তী সিগন্যালটি—যা সোমবার সন্ধ্যায় 1.3259-1.3267 এরিয়া থেকে রিবাউন্ডের ফলে গঠিত হয়েছিল— ট্রেডারদের প্রায় সম্পূর্ণ নিম্নমুখী মোমেন্টাম কাজে লাগাতে সাহায্য করেছিল, যার ফলে এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়ায় পৌঁছায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে বাউন্স করায় ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ পেয়েছে, যা আজও প্রাসঙ্গিক রয়েছে।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বের হয়ে নিম্নমুখী হয়েছে, তবে আমরা সন্দিহান যে এই দরপতন অব্যাহত থাকবে কিনা। অবশ্য, মার্কিন ডলারের আরও দর বৃদ্ধির জন্য যদি গুরত্বপূর্ণ কোনো কারণ দেখা যায়, তাহলে এমনটা ঘটতে পারে—কিন্তু বর্তমানে এমন কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের বিষয়টি সম্পূর্ণ না হলেও কিছুটা সমাধান হয়েছে এবং ফেড কেবল চলতি বছরের শেষদিকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে; সেইসাথে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক সংকট যেন এক নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়ার নিচে স্থিতিশীল হয় তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3096-1.3107 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3175-1.3180 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করে তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3259-1.3267 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741-1.3751। বুধবার যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে কেবল স্বল্প গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তবুও বর্তমানে ট্রেডাররা মার্কিন ডলার ক্রয় করে যাচ্ছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্রয়ের জন্য বিশেষ কোনো কারণের দরকার হচ্ছে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।