গতকাল, মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে মিশ্র প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.28% হ্রাস পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 0.20% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.29% হ্রাস পেয়েছে।
ইরানের ওপর নতুন করে মার্কিন হামলার জেরে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও দিনের শুরুতে তা কিছুটা কমে গেছে, ইউরোপীয় স্টক মার্কেট ঘুরে দাঁড়ানোর পথে রয়েছে এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দর সামান্য বেড়েছে। ট্রেডিং শুরুর সময় ইউরোপীয় স্টক সূচকের ফিউচার্স প্রায় 1% বৃদ্ধি পেয়েছে, মার্কিন স্টক সূচকগুলোর কন্ট্রাক্ট নেতিবাচক অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রায় +0.3% বৃদ্ধি পেয়েছে, এশীয় বেঞ্চমার্ক সূচকগুলো প্রায় 0.3% বেড়েছে, অন্যদিকে ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের মূল্য প্রায় 0.4% কমে ব্যারেল প্রতি $78-এর নিচে নেমে এসেছে।
মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলায় ফেডের আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর হতে পারে, এই আশঙ্কায় বুধবারের তীব্র দরপতনের পর বন্ডের দর আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১০-বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ দুই বেসিস পয়েন্ট কমে 4.56%-এ নেমে এসেছে। স্বর্ণ ও রুপার মূল্যও বেড়েছে। তা সত্ত্বেও, সামগ্রিক চিত্রটি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে এই সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধির উদ্বেগ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং এর ফলে ট্রেডাররা ফেডের পরবর্তী সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ডিসেম্বর থেকে অক্টোবরে সরিয়ে আনতে বাধ্য করেছে। এআইভিত্তিক কোম্পানিগুলোর স্টকের ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর ইতোমধ্যেই ওভারভ্যালুড ইক্যুইটি সূচকের উপর এই বিষয়টি চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি মার্কিন ডলারকে কোনো সহায়তা যোগায়নি।
ভ্যান্টেজ গ্লোবাল প্রাইম সার্বিক পরিস্থিতির এই পরিবর্তনকে 'এক প্রকার বিশৃঙ্খলা' হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেখানে তেল, স্বর্ণ এবং নিরাপদ অ্যাসেটগুলো হঠাৎ করেই আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এটি এমন একটি স্টক মার্কেটের যথার্থ বর্ণনা, যে মার্কেটকে একই সাথে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং মুদ্রানীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশার দ্রুত পুনর্মূল্যায়নকে স্টকের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচনার মধ্যে রাখতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকাড় যুদ্ধবিরতি অকার্যকর হয়ে গেলে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনরায় দ্রুতগতিতে বাড়বে—এই ঝুঁকি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে উচ্চ পর্যায়ে রাখছে, যা ফলস্বরূপ ফেডকে মুদ্রানীতি কঠোর করতে বাধ্য করতে পারে।
শুধু ফেডের ক্ষেত্রেই নয়, বরং ইসিবি, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড এবং ব্যাংক অফ জাপানের ক্ষেত্রেও চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন প্রবল বলে মনে করা হচ্ছে, এবং নিউজিল্যান্ডে আরও দুইবার সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃক যুগপৎভাবে হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘটনা, যা বেশ অস্বাভাবিক।
এদিকে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। ইরানের ওপর টানা দুই দিনের মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। জাহাজ-ট্র্যাকিংয়ের তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, বেশিরভাগ জাহাজ ইরান-অনুমোদিত উত্তরের পথ দিয়ে হয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন-সমর্থিত ওমানের করিডোরটি প্রায় খালিই ছিল।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,518-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,544-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,574-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,494-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,474-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,451 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।