গতকাল, মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে দৃঢ় প্রবৃদ্ধির সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.81% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং নাসডাক 100 সূচক 1.30% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.27% বৃদ্ধি পেয়েছে।
এশীয় স্টক মার্কেটগুলোতেও শক্তিশালী উত্থানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহ শেষ হয়েছে এবং এআই খাতভিত্তিক স্টক নিয়ে আশাবাদ আবারও ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগকে ছাপিয়ে গেছে। এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিক সূচক 1.7% বৃদ্ধি পেয়ে সাপ্তাহিক ক্ষতি 1%-এরও নিচে নামিয়ে এনেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক 1.9% বৃদ্ধি পেয়ে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তার সেরা সাপ্তাহিক লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছেছে, অন্যদিকে এআই বিনিয়োগের সূচক হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক 5% বৃদ্ধি পেয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে পরিলক্ষিত দরপতনের পর স্টক ক্রয়ের প্রবণতাই প্রযুক্তি খাতের প্রতি নতুন করে আগ্রহের মূল কারণ। মনে রাখা দরকার যে, সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারীরা স্যামসাংয়ের ১৯ গুণ মুনাফা বৃদ্ধিতেও প্রভাবিত হননি, যা প্রযুক্তি খাতের স্টক বিক্রির হিড়িক সৃষ্টি করে এবং এআই খাতের উত্থানকে ঘিরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্বেগ তৈরি হয়। পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই পাল্টে গেছে: অনেকেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, স্টক বিক্রির সাম্প্রতিক প্রবণতা কিছুটা বাড়াবাড়ি ছিল এবং এটি এই খাতের শক্তিশালী মুনাফাকে পুরোপুরিভাবে প্রতিফলিত করেনি। বিনিয়োগকারীরা দৃশ্যত এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতের স্টকগুলোই মুনাফা এবং আয় বৃদ্ধির সেরা সম্ভাবনা দিচ্ছে।
মাইক্রন থেকেও আরও একটি অনুঘটক এসেছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত চাহিদা মেটাতে তারা নতুন মার্কিন ফ্যাবগুলোর জন্য মূলধনী ব্যয় ২৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। লেনদেন-পরবর্তী সময়ে মাইক্রনের স্টকের দর 1.1% বেড়েছে। এটি আরও একটি প্রমাণ যে, মেমোরি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই চাহিদার ওপর ভরসা করে আগ্রাসীভাবে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
ফরেক্স মার্কেটে ইয়েনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা বলেছেন যে তিনি পেনশন তহবিলগুলোকে দেশীয় আর্থিক সম্পদে বরাদ্দ বাড়াতে উৎসাহিত করবেন, যা ইয়েনের দর বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ইয়েনের দর 0.5% বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ডলারে প্রায় 161.65-এ পৌঁছেছে এবং দীর্ঘমেয়াদী জাপানী সরকারি বন্ডের দামও বেড়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও সপ্তাহের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানে তা ট্রেডারদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দিনের সংঘর্ষ ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেললেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকাড় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন একটি সমাধান খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ট্রেডাররা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে এই সংঘাতের কারণে ব্যাপকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, যার ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি $76.70-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়েছে। ট্রেজারি বন্ডের দর বেড়েছে এবং ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড এক বেসিস পয়েন্ট কমে 4.54%-এ নেমে এসেছে।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,544-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,574-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,600-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,518-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,494-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,474 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।