মঙ্গলবার GBP/USD পেয়ারের মূল্য বেশ ভালোই বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফলকে বিবেচনা করা হচ্ছে যা অপ্রত্যাশিতভাবে পূর্বাভাসের চেয়ে কম ছিল। ফলে ব্রিটিশ পাউন্ড মার্কেট থেকে সহায়তা পেয়েছে, তবে এটির মূল্য আগেই অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করায় স্বল্পমেয়াদে এখনও দরপতন দেখা যেতে পারে। তাছাড়া এই সপ্তাহে আর তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্ট বাকি নেই এবং ট্রেডাররা এখন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করেছে; ফলে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে আমরা মূলত টেকনিক্যাল মুভমেন্ট দেখতে পাব। মনে রাখতে হবে যে ফেড যদি বছর শেষে মূল সুদের হার বৃদ্ধি করে—মার্কেটের ট্রেডাররা ইতোমধ্যে এই বিষয়টিকে জুনেই মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছে। তাই আমাদের ধারণা মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য দর বৃদ্ধির জন্য আর তেমন কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। অবশ্য ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, কিন্তু বর্তমানে সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্টমঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, এবং ঠিক এক ঘণ্টা পর সেটি ঐ এরিয়া ব্রেক করে। প্রথম সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয়েছিল, আর দ্বিতীয়টি কার্যকর করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল—মাত্র ৫ মিনিটে এই পেয়ারের মূল্য 50 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে মঙ্গলবার ট্রেডিংয়ের জন্য খুব একটা উপযুক্ত দিন ছিল না।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা অথবা অন্তত একটি কারেকশন শুরু হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আপাতত বন্ধ আছে, কিন্তু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুতই দীর্ঘমেয়াদী সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে। তাই মার্কিন ডলারের মূল্যের নতুন কোনো প্রবণতা শুরু না হলেও, নিকট ভবিষ্যতে ব্রিটিশ পাউন্ড এবং ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে। একই সময়ে ফেড কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমছে, যা ইউরো ও পাউন্ডকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে আমরা একটি কারেকশনের প্রত্যাশা করছি।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319-1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। বুধবার যুক্তরাজ্যে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, এবং যুক্তরাষ্ট্রে কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্য অনুষ্ঠিত হবে ও উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) প্রকাশিত হবে—আমরা এই প্রতিবেদনের ফলাফল ও কংগ্রেসে ওয়ার্শের বক্তব্যকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছি না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।