১৭ জুলাই কীভাবে GBP/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

আগের দিনে ব্যাপক উত্থানের পরে বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের কারেকশন হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের প্রায় 90 পিপস দরপতন হয়েছে। গতকাল সকালে যুক্তরাজ্যে মে মাসের জিডিপি ও শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যেগুলোর ফলাফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল, যা আংশিকভাবে ব্রিটিশ মুদ্রার দরপতনকে ত্বরান্বিত করেছে। তবে আমরা এই প্রতিবেদনগুলোকেই পাউন্ডের দরপতনের মূল কারণ বলে বিবেচনা করছি না। মে মাসে দেশটির জিডিপি +0.1% প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করেছে, যা প্রত্যাশিত ছিল। এদিকে দেশটির শিল্প উৎপাদন 0.5% হ্রাস পেয়েছে, যদিও ট্রেডাররা কেবল 0.1% পতনের আশা করেছিল। মূলত শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনই পাউন্ড স্টার্লিংয়ের বিপক্ষে কাজ করেছে; তবু এর ফলে প্রায় 1 সেন্টের দরপতন সৃষ্টি হবে বলে বিবেচনা করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল মোটামুটি নিরপেক্ষ ছিল, আর ফিলাডেলফিয়া ফেড ব্যবসায়িক সূচকের হার 13-এর পূর্বাভাসের বিপরীতে 41.4-এ পৌঁছেছে। তবে আমাদের মতে মূলত টেকনিক্যাল কারণে এই পেয়ারের দরপতন ঘটেছে। পাউন্ডের মূল্য ধারাবাহিকভাবে তিন সপ্তাহ ধরে বাড়ছে, তাই এখন টেকনিক্যাল কারেকশন হওয়া দরকার।

GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। শুধুমাত্র দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া টেস্ট করেছে, ফলে শুক্রবারে হয়তো কেবল এই এরিয়ায়ই ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হবে।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে তিন সপ্তাহব্যাপী GBP/USD পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আমরা মনে করি যে, গত তিন সপ্তাহে ন্যায্য মূল্যের পুনরুদ্ধারের জন্যই পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হায়ার টাইমফ্রেমে তা সাইডওয়েজ চ্যানেলভিত্তিক টেকনিক্যাল মুভমেন্ট থেকে বাড়তি সহায়তা পাচ্ছে। ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে ট্রেন্ডলাইনটি পুনরায় অঙ্কন করা হয়েছে এবং তা আবার পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পেয়ারের মূল্য উক্ত ট্রেন্ডলাইনের নিচে কনসলিডেট করলে কারেকশন হয়ে এই পেয়ারের মূল্য নিম্নমুখী হতে পারে। আমাদের দৃষ্টিতে কেবল তখনই মার্কিন ডলারের মূল্যের নতুন প্রবণতার প্রত্যাশা করা যেতে পারে যদি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে নতুন লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোন উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে হাউজিং সেক্টর এবং ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের কনজিউমার সেনটিমেন্ট ইনডেক্স সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। কোনো ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ব্যাপারে অপ্রত্যাশিত সংবাদ প্রকাশিত না হলে আজ আমরা মার্কেটে তীব্র মুভমেন্টের আশা করছি না।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।