শুক্রবারের সেশনে সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, যা ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আনুষ্ঠানিকভাবে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে; তবু তিন সপ্তাহ ধরে চলমান উর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে ইউরোর মূল্য খুব কমই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য উভয় ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করেছে এবং এখন আর সেগুলো প্রাসঙ্গিক নেই। শুক্রবার ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক প্রতিবেদনের ফলাফল ট্রেডারদের তেমনভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি, এবং এই পেয়ারের মূল্যের দৈনিক ওঠানামার পরিমাণ মোট 30 পিপসও অতিক্রম করেনি। ফলে মার্কেটে স্থবিরতাই বজায় রয়েছে। মোটের উপর, বর্তমান উর্ধ্বমুখী মুভমেন্টটি একটি কারেকশন বলে মনে হচ্ছে, যা নতুন করে প্রবল দরপতনের পূর্বাভাস হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে হবে যে—নতুন করে কী কারণে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যায়? এক্ষেত্রে শুধুমাত্র ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির কথাই মনে আসে। ট্রেডাররা কোনো কারণ ছাড়াই মার্কিন ডলার ক্রয় করতেও পারে। বর্তমানে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় এমন কোনো টেকনিক্যাল সিগন্যালও দেখা যাচ্ছে না।
EUR/USD পেয়ারের 5M চার্টশুক্রবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। দিনভর এই পেয়ারের মূল্য কোনো লেভেল বা এরিয়া টেস্ট করতে পারেনি। অতএব নতুন ট্রেডারদের কাছে পজিশন ওপেন করার মতো কোনো ভিত্তি ছিল না।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য উভয় ট্রেন্ডলাইনই ব্রেক করেছে এবং এখন আর সেগুলো প্রাসঙ্গিক নেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি ও মুভমেন্ট বিবেচনা করে আমাদের ধারণা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে; এবং এটির মূল্য এখনকার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। তবে সত্যিকার অর্থে বর্তমান উর্ধ্বমুখী মুভমেন্টটি একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; এবং এই মুভমেন্টটি কোনো নির্দিষ্ট প্রবণতার চেয়ে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1363-1.1377-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1461-1.1466 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে আজ আমরা এই পেয়ারের মূল্যের তীব্র মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি না।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1363-1.1377, 1.1461-1.1466, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754। সোমবারে ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই। ফলে আজ মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির মতো কিছুই থাকবে না এবং আবারও খুব দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।