সিএফটিসি-র সর্বশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন ডলারের পজিশনিংয়ে পরিবর্তনের প্রাথমিক ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।। এক সপ্তাহ আগে, আইএমএম ফিউচার্সে মার্কিন ডলারের মোট লং পজিশন ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল; গত সপ্তাহে তা ১.৩ বিলিয়ন কমেছে। দুই মাসের মধ্যে এটিই প্রথম পতন, তবুও মার্কিন ডলারের মূল্যের দৃঢ় বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
সিএমই-এর ফিউচার্স মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী ২৮-২৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জুলাই মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। মার্কিন সুদের হার ৩.৫–৩.৭৫%-এ থাকার সম্ভাবনা ৮৫.৬%, যেখানে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাত্র ১৪.৪%। এক সপ্তাহ আগে, জুলাই মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছিল ৪৫%।
তবে, সেপ্টেম্বরের চিত্রটি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। ট্রেডাররা সেপ্টেম্বরে মার্কিন আর্থিক নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ৩৯.৭%, সুদের হাড় ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৫২.৬% এবং ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭.৭% বলে নির্ধারণ করেছে। সিএমই-এর মতে, ট্রেডাররা সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় সমান দেখছেন এবং ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার অন্তত একবার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭০%-এর বেশি বলে মনে করছেন।
নিউইয়র্ক ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ হকিশ বা কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতি কম সহনশীলতার ওপর জোর দিচ্ছেন, যদিও তিনি কঠোর নীতিমালা গ্রহণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। তার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান জুনের মন্থর মূল্যস্ফীতির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। দুই বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের লভ্যাংশ ইতোমধ্যে ১৫ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা নীতিমালা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে ট্রেডারদের আস্থা প্রতিফলিত করে এবং মার্কিন ঋণের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে, যা ফলস্বরূপ মূলধন প্রবাহকে সমর্থন করে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই মাসে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশা জুনের ৪.৬% থেকে কমে ৪.২%-এ নেমে এসেছে, যেখানে পাঁচ থেকে দশ বছরের প্রত্যাশা ৩.৩%-এ অপরিবর্তিত রয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেডাররা এখনও মধ্যমেয়াদে অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির চাপের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এই সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মূল্যের মূল চালিকাশক্তি হলো মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। সপ্তাহান্তে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কমান্ড পোস্ট, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক কেন্দ্র এবং নৌ সম্পদসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা নবম দফা হামলা সম্পন্ন করেছে। তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন এবং বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে। ওয়াশিংটন নিজেকে "হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক" হিসেবে ঘোষণা করতে এবং নিরাপত্তা ব্যয় নির্বাহের জন্য সমস্ত পণ্য পরিবহনের খরচের ২০ শতাংশ কর আরোপ করতে চায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের বাইরেও বিস্তৃত। তাদের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর মৌলিক ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা—যা বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবাহের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে এবং জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। অন্যদিকে, ইরানি বাহিনী সতর্ক করেছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন কার্যকলাপ অব্যাহত থাকলে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রেও হরমুজ প্রণালী অনিরাপদ থাকবে।
মার্কেটে প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে: ২০শে জুলাই সকালে, আইসিই-তে ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের মূল্য এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্যারেল প্রতি $90 ছাড়িয়ে যায় এবং অল্প সময়ের জন্য $91.22-এ পৌঁছায়। জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি পেলে তা মার্কিন ডলারের উপর দ্বৈত প্রভাব ফেলে—এটি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির প্রত্যাশা বাড়ায় এবং ফেডের আর্থিক নীতিমালা কঠোর করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে, পাশাপাশি নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদাও বাড়িয়ে তোলে।
আগামী দিনগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসের দ্বারা নির্ধারিত হবে। সংঘাত তীব্র হওয়ার সাথে সাথে, নিরাপদ বিনিয়োগে মূলধন প্রবাহ এবং তেলের উচ্চমূল্য থেকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে মার্কিন ডলার সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো স্থায়ী পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু আক্রমণাত্নক পজিশনিং এবং টেকনিক্যাল রেজিস্ট্যান্স সতর্ক থাকার সংকেত দিচ্ছে।