USD/JPY পেয়ারের মূল্যের বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস। USD/JPY পেয়ারের মূল্য ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেভেলের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে

USD/JPY পেয়ারের মূল্য বুলিশ কনসলিডেশন ফেজে প্রবেশ করেছে এবং 163.00 লেভেলের উপরে স্থিতিশীল রয়েছে, যা ১৯৮৬ সালে পরিলক্ষিত সর্বোচ্চ লেভেলের কাছাকাছি অবস্থিত। তবে, ইয়েনকে সহায়তা করার জন্য জাপানি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের জল্পনা-কল্পনার কারণে ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন, যা এই পেয়ারের আরও মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তা সত্ত্বেও, অনুকূল মৌলিক প্রেক্ষাপট সাম্প্রতিক স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাব্যতা নির্দেশ করে।

বিনিয়োগকারীরা জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারের উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন, যা ক্যারি ট্রেডকে উৎসাহিত করে এবং জাপানি ইয়েনের আপেক্ষিক দুর্বলতার একটি মূল কারণ। এছাড়াও, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সম্পর্কিত অর্থনৈতিক ঝুঁকিও ইয়েনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

অন্যদিকে, গত চার দিন ধরে মার্কিন ডলারের মূল্যের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা USD/JPY পেয়ারকে বাড়তি সহায়তা যোগাচ্ছে এবং ইতিবাচক প্রবণতার সম্ভাবনা নিশ্চিত করছে।

ব্যাংক অফ জাপান জুন মাসে স্বল্পমেয়াদী সুদের হার বাড়িয়ে ১.০০%-এ উন্নীত করে সতর্কতার সাথে মুদ্রানীতি স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ সুদের হার। অন্যদিকে, জুলাই মাসে অনুষ্ঠেয় মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ৩.৫০% থেকে ৩.৭৫%-এর মধ্যে বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, এর ফলে ২৫০-২৭৫ বেসিস পয়েন্টের একটি পার্থক্য তৈরি হচ্ছে, যা ট্রেডারদের অধিক মুনাফা প্রদানকারী অ্যাসেটে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে, যা হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। যেহেতু জাপান তার ৯০ শতাংশেরও বেশি চাহিদা মেটানোর জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই এই অনিশ্চয়তা জাপানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং ইয়েনের দরপতনের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাকেও সমর্থন করছে, যা মার্কিন ডলার এবং USD/JPY পেয়ারের আরও মূল্য বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।

বুধবার, মার্কেটকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য মার্কিন অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে না, তাই মার্কিন ডলারের মূল্যের মুভমেন্ট মূলত ফেডের প্রভাবশালী সদস্যদের মন্তব্যের ওপর নির্ভর করবে। এছাড়াও, মার্কিন-ইরান সংঘাত সংক্রান্ত খবরের কারণে ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটগুলোতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে, যা মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং USD/JPY পেয়ারের মূল্যকে আরও গতিশীল করবে। তা সত্ত্বেও, পূর্বোক্ত কারণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এই পেয়ারের স্পট মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী, এই পেয়ারের মূল্যের প্রধান সাপোর্ট হিসেবে 9-ডে EMA-কে বিবেচনা করা হচ্ছে। 163.23-এ একটি রেজিস্ট্যান্স লেভেল দেখা যাচ্ছে। অসিলেটরগুলো পজিটিভ জোনে রয়েছে, যা নির্দেশ করে যে এই পেয়ারের বুল বা ক্রেতারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

নিচের টেবিলে এই সপ্তাহে প্রধান কারেন্সিগুলোর বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মূল্যের শতকরা পরিবর্তন দেখানো হয়েছে, যেখানে কানাডিয়ান ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে।