শুক্রবার বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জুলাই মাসের পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ সূচককে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে না, কারণ ট্রেডাররা বর্তমানে টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে; তবে, তারপরও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। তবে, সেই প্রতিক্রিয়া দুর্বল হওয়ার এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত না করার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়াও, যুক্তরাজ্যে আজ খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:শুক্রবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেনের বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে, এই বক্তব্যের কী এমন গুরুত্ব আছে, যখন গতকালই ক্রিস্টিন লাগার্ডের সংবাদ সম্মেলনের পাশাপাশি ইসিবির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ট্রেডাররা সেইসব প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে গেছে যা তারা ঐতিহ্যগতভাবে উপেক্ষা করে এসেছে? আমরা মনে করি যে লেনের বক্তব্যের প্রতি ট্রেডাররা খুব একটা আগ্রহী হবে না এবং তিনিও ট্রেডারদের নতুন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য দেবেন না।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে মোড় নিচ্ছে। আরেকবার যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী লঙ্ঘিত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছেন এবং তেহরানও এর জবাব দিচ্ছে, যেকোনো মুহূর্তে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে পূর্ণ অবরোধ আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়েমেনের হুথিরা ইতোমধ্যেই সৌদি আরবের ওপর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে সম্ভবত লোহিত সাগরের ওপর অবরোধের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, যা নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে, যা ইতোমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
উপসংহার:চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে, 1.1377-1.1461-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলের মধ্যে ইউরোর ট্রেডিং অব্যাহত থাকতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের সম্ভবত নিম্নমুখী প্রবণতাই বজায় থাকবে। আজ ইউরো 1.1363-1.1377 এরিয়া থেকে এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে ট্রেড করা যেতে পারে। উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা আবারও হ্রাস পেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।চার্টে কী কী রয়েছে:সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।