সোমবার তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি 8.7 শতাংশ পতনের পর ব্রেন্টের গ্রেডের জ্বালানি তেলের তীব্র দরপতন অব্যাহত রয়েছে এবং তা ব্যারেল প্রতি $88-এর নিচে নেমে গেছে। ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের দর প্রায় $82-এ স্থিতিশীল রয়েছে।
এই দরপতনের ধারাবাহিকতার কারণ হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা করছে এবং উভয় পক্ষই হামলা করা থেকে বিরত রয়েছে। অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি আলোচনার আরও একটি সুযোগ দেওয়ার জন্য হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাংবাদিকদের কাছে করা মন্তব্যে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, আলোচনায় অগ্রগতির "ভালো সম্ভাবনা" রয়েছে। তবে, প্রকৃতপক্ষে কোনো সারগর্ভ আলোচনা হচ্ছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য অত্যন্ত অস্থিতিশীল ছিল। প্রাথমিকভাবে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ায় এবং লোহিত সাগর পর্যন্ত যুদ্ধের বিস্তারের মধ্যে তেলের মূল্য তীব্রভাবে বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উত্তেজনা প্রশমিত হলে তা দরপতনের শিকার হয়। তা সত্ত্বেও, ট্রেডাররা সতর্ক রয়েছেন, কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
প্রকৃত জাহাজ চলাচলের তথ্য এই সতর্কতারই ইঙ্গিত দেয়। মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত ছিল, যদিও কিছু জাহাজকে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই পার হতে দেখা গেছে। এর আগের দিন মাত্র চারটি জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছিল।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে, বিভিন্ন দিকে তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার গভীর রাতে সৌদি ও ওমানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং হরমুজ প্রণালীর ব্যাপারে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে, ইরান ও ওমানের আলোচকরা প্রণালীটি দিয়ে নৌপরিবহন পুনরায় চালু করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগরকে বিশ্ববাজারের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং শান্তিকালীন সময়ে দৈনিক তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর মাধ্যমেই সম্পন্ন হতো।
আজ ইরানের ব্যাপারে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাহত করার লক্ষ্যে এই দুটি দেশ ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু করেছিল।
জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $83.56-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $86.67-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $89.54 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $80.50-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $78.70 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $76.30 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।