যখন MACD সূচকটি শূন্যের নিচের দিকে নামতে শুরু করে তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3453-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা পাউন্ডের সেল পজিশন ওপেন করার জন্য সঠিক এন্ট্রি পয়েন্ট নিশ্চিত করে। এর ফলে, এই পেয়ারের মূল্য 1.3416-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে হ্রাস পায়।
গতকাল ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে ব্রিটিশ উৎপাদন খাত সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশের পর পাউন্ড স্টার্লিং কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখায়। দিনের শুরুতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের উৎপাদন খাতের পিএমআই (PMI) সূচক প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের কার্যক্রম ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার আশঙ্কায় থাকা ট্রেডারদের জন্য এটি একটি সুখবর ছিল।
তবে কারেন্সি মার্কেটে সচরাচর যা ঘটে, এক্ষেত্রেও ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ক্ষণস্থায়ী ছিল। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে আটলান্টিকের ওপার থেকে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত বিষয়ক প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল ডলারকে সহায়তা করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দরপতন ঘটায়। আইএসএম ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই সূচক বেড়ে ৫৫.৬ শতাংশে পৌঁছায়; এটি জুনের ফলাফল চেয়ে ২.৩ পয়েন্ট বেশি এবং ট্রেডারদের প্রত্যাশাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। জুলাই মাসে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের এই দ্রুততম সম্প্রসারণের ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা বিষয়ক উদ্বেগ দূর হয় এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি হকিশ বা কঠোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বাহ্যিক প্রভাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে দরপতনের শিকার হয়।
আজ যুক্তরাজ্য থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, তাই পাউন্ডের ক্রেতারা কারেন্সি পেয়ারটির মূল্যের কিছুটা পুনরুদ্ধার ঘটানোর সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই পেয়ারের মূল্যের উল্লেখযোগ্য উত্থানের সম্ভাবনা কম হওয়ায় এই সুযোগটি বেশ সীমিত। ট্রেডাররা সম্ভবত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।
পরিকল্পনা #1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3462-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.3438-এর (চার্টে হালকা সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি পাউন্ডের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। মূল্য প্রায় 1.3462-এর লেভেলের আশেপাশে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, উল্লিখিত লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। আজ শুধুমাত্র কারেকশনের অংশ হিসেবে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের উপরে রয়েছে এবং শূন্যের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.3418-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ পাউন্ডের লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। 1.3438 এবং 1.3462-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যালপরিকল্পনা #1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3418-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেলে পৌঁছানোর পর আমি পাউন্ডের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, যা GBP/USD-এর দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। বিক্রেতাদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.3394-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার আশা করছি। আজ নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হলে পাউন্ডের উপর চাপ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের সেল পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি শূন্যের নিচে রয়েছে এবং শূন্যের নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা #2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকাকালীন সময়ে মূল্য পরপর দুইবার 1.3438-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ পাউন্ডের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী দিকে নিয়ে যাবে। 1.3418 এবং 1.3394-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করা যেতে পারে।