আরও একবার যুদ্ধবিরতির পর জ্বালানি তেলের দর স্থিতিশীল হয়েছে

WTI-এর মূল্য পুনরুদ্ধার হয়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় $80-এ পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পর যে তীব্র দরপতন হয়েছিল, তার বিপরীতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মূল্যও বেশ ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনা বা দরকষাকষির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যসমূহ সন্দেহজনকভাবে বেশ অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভাষ্যও একে অপরের চেয়ে ভিন্ন। ইরান জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি অস্থায়ী পথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সাথে আলোচনা এগিয়ে চলেছে। তবে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কোনো আলোচনার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে; অথচ ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন যে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে—এমনকি তিনি বলেন যে এটি আগামীকালই ঘটতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় ধরনের হামলা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর এই আলোচনা ইরানের জন্য শেষ সুযোগ।

বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় পরস্পরবিরোধিতা হলো, মার্কেটে তেলের তীব্র দরপতনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়েছে—অথচ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে অবাধ চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইরানের প্রস্তুতির স্পষ্ট কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না (উল্লেখ্য, অতীতে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়েই আসত)। তবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিই এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে এবং তেলের মূল্যের বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল।

বর্তমানে তেলের দর নিয়ে ট্রেডারদের মূল্যায়ন অত্যধিক হতাশাপূর্ণ; নেতিবাচক খবরের প্রতি ট্রেডারদের যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাতে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। তেলের মূল্যের ক্ষেত্রে পরবর্তী কোনো পরিবর্তন কেবল তখনই আসবে যখন আলোচনায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বা সাফল্য অর্জিত হবে। কারণ, জুনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর মার্কেটে যে সাময়িক উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গিয়েছিল এবং অনেকেই এখন সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন।

কূটনৈতিক আলোচনার আবহ সত্ত্বেও জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রকৃত ঝুঁকি কিন্তু এখনও কাটেনি। যদিও কিছু জাহাজ এখনো এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করছে, তবুও বেশ বড় হুমকি বজায় রয়েছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম অ্যান্ড কোস্টগার্ড এজেন্সির তথ্যমতে, রবিবার ওমানের উপকূলের কাছে একটি ট্যাঙ্কারের খুব কাছাকাছি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $80.51-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $83.56-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $86.67 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $78.70-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $76.30 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $73.80 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।